বিদআত ২ (প্রকারভেদ)

ইতিপূর্বে জানা গেছে যে, বিদআত দু’রকম- বিদআতে হাসানা ও বিদআতে সাইয়া। এখন স্মরণ রাখতে হবে যে, বিদআতে হাসানা তিন প্রকার- জায়েয, মুস্তাহাব ও ওয়াজিব এবং বিদআতে সাইয়া দু’রকম- মাকরূহ  হারাম। এ প্রকারভেদের প্রমাণ দেখুন । মিরকাত গ্রন্থ الاعتصام بالكتات والسنة  অধ্যায়ে আছে।

বিদআত হয়তো ওয়াজিব, যেমন:- আরবী ব্যাকরণ শিখা এবং ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহকে একত্রিত করা; অথবা হারাম, যেমন জবরীয়া  সম্প্রদায় বা মুস্তাহাব, যেমন:- মুসাফিরখানা ও মাদরাসা সমূহ তৈরী করা এবং প্রত্যেক ভাল কাজ, যা আগের যুগে ছিল না, যেমন:- জামাআত সহকারে তারাবীর নামায পড়া অথবা মাকরূহ, যেমন :- মসজিদসমূহে গৌরব বোধক কারুকার্জ করা, অথবা জায়েয, যেমন:- ফজরের নামাযের পর মুসাফাহা করা ও ভাল খানাপিনার ব্যাপারে উদারতা দেখানো।
ফতওয়ায়ে শামীর প্রথম খন্ড কিতাবুস সালাতের    الامامت অধ্যায়ে উল্লেখিত আছে।
হারাম বিদআতীর পিছনে নামায পড়া মাকরূহ। অন্যথায় কোন কোন বিদআত ওয়াজিবে পরিণত হয়, যেমন:- প্রমানাদি উত্থাপন, ইলমে নাহু (আরবী ব্যাকরণ) শিখা, কোন কোন সময় মুস্তাহাব, যথা :- মুসাফিরখানা, মাদরাসা এবং সে সব ভাল কাজ, যা আগের যুগে ছিল না, প্রচলন করা, আবার কোন সময় মাকরূহ, যেমন:- মসজিদ সমূহে গৌরববোধক কারুকার্য করা এবং কোন সময় মুবাহ, যেমন:- ভাল খানা-পিনা ও পোশাক পরিচ্ছদের ব্যাপারে উদারতা প্রদর্শন করা। ‘জামেসগীর’ গ্রন্থের ব্যাখ্যায়ও অনুরূপ উল্লেখিত আছে”।
উপরোক্ত ভাষ্য থেকে সুস্পষ্টভাবে পাঁচ প্রকার বিদআতের পরিচয় পাওয়া গেল। সুতরাং, বোঝা গেল যে, প্রত্যেক বিদআত হারাম নয় বরং কতেক বিদআত অত্যাবশ্যকও হয়ে থাকে, যেমন:- ফিকহ, উসূলে ফিকহ, কুরআন কারীমকে একত্রিত করা বা কুরআনে এরাব (যবর, যের, পেশ ইত্যাদি) দেয়া, আধুনিক পদ্ধতিতে কুরআন ছাপানো এবং মাদরাসায় শিক্ষা দেয়ার জন্য পাঠ্যপুস্তক ইত্যাদি প্রণয়ন। -সুত্রঃ জা’আল হক ২য় খন্ড-

বিদআত ১ (সংজ্ঞা)

বিদআতের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে নতুন জিনিস। যেমন: কুরআনে কারীমে এরশাদ ফরমান- قُلْ مَاكُنْتُ بِدْعًا مِّنْ الرَّسُلِ (বলে দিন, আমি নতুন রসুল নই) অন্যত্র ইরশাদ করেন- بَدِيع السَّموَاتِ وَالْاَرْضِ (আসমান ও যমীন সমূহের সৃষ্টিকর্তা) আর এক জায়গায় ইরশাদ করা হচ্ছে- –  وَرُهبَانِيَّةَ اِبْتَدَعُوْاهَا مَاكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ “সন্নাসবাদ তারা নিজেরাই প্রবর্তন করেছিল, আমি তাদেরকে এর হুকুম দেইনি”)

উপরোক্ত আয়াত সমূহে ‘বিদআত’ শব্দকে শাব্দিক অর্থে -অর্থ্যাৎ নতুন কিছু তৈরী করা ইত্যাদি অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। মিশকাত শরীফের ব্যাখ্যাগন্থে মিরকাতে  الاعتصام بالكتاب والسنة শীর্ষক অধ্যায়ে উল্লেখিত আছে –

قَالَ النُّوَوِىُّ اَلْبِدْعَةُ كُلُّ شَيْئٍ عَمِلَ عَلى غَيْرِ مِثَالٍ سَبَقَ

বিদআত সে কাজকে বলা হয়, যা বিগত কোন কিছুর অনুকরণ ছাড়া করা হয়। বিদআত তিন অর্থে ব্যবহার হয়। (১) নতুন কাজ, যা হুযুর পাক (স:) এর পরে সূচিত হয়েছে: (২) সুন্নাতের বিপরীত কাজ, যা সুন্নাতকে বিলুপ্ত করে এবং (৩) সে সব বদআকিদা, যা পরবর্তীকালে সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম অর্থে ব্যবহৃত বিদআত মাত্রই সাইয়া (মন্দ)। যে সব বুযুর্গানে কিরাম প্রত্যেক বিদআতকে সাইয়্যা (মন্দ) বলেছেন, তারা তা দ্বিতীয় অর্থের বেলায় বলেছেন এবং হাদীসের মধ্যে যে আছে- প্রত্যেক বিদআদ গুমরাহী, তা দিয়ে তৃতীয় অর্থের বিদআত বোঝানো হয়েছে। সুতরাং, হাদীস সমূহ ও উলামায়ে কিরামের উক্তি সমূহের মধ্যে কোন বিরোধ নেই।
শরীয়তের পরিভাষায় বিদআত বলতে সে সব আকীদা ও আমলকে বলা হয়, যা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জাহেরী জিন্দেগীকালে ছিল না। পরে প্রচলন হয়েছে। এ সংজ্ঞা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, বিদআতে শারেয়ী দু’রকম বিদআতে ইতিকাদী ও বিদআতে আমলী। বিদআতে ইতিকাদ সে সব মন্দ আকীদাকে বলা হয়, যা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে ইসলাম ধর্মে সূচিত হয়েছে। ঈসায়ী, ইহুদী, মজুসী এবং মুশরিকদের আকীদা সমূহ বিদআতে ইতিকাদী নয়। কেননা এরা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জিন্দেগীতে বিদ্যমান ছিল। অধিকন্তু সেসব আকীদাকে ঈসায়ী ও অন্যান্যগণ ইসলামী আকাইদ বলে না। জবরীয়া, কদরিয়া, মরজিয়া, ছকড়ালবী, লা-মাযহাবী ও দেওবন্দীদের আকীদা হচ্ছে বিদআতে ইতিকাদী । কেননা এসব ফিরকা পরে আবির্ভূত হয়েছে এবং এরা তাদের আকীদাকে ইসলামী আকীদা মনে করে থাকে। যেমন:- দেওবন্দীরা বলে, আল্লাহ মিথ্যে বলার ক্ষমতা রাখেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গায়েব জানে না। নামাযে হুযুরের স্বরণ গরু গাধার স্বরণ থেকে খারাপ। এসব নাপাক আকীদা ১২০০ হিজরীর আবিস্কার। আমি এ কিতাবের শুরুতে ফতওয়ায়ে শামীর উদ্ধৃতি দিয়ে এর প্রমান দিয়েছি।
এখন বিদআতে হাসানার প্রমান নিন আল্লাহ তায়ালা ফরমান

وَجَعَلْنَا فِىْ قُلُوْبِ الَّذِيْنَ اتَّبَعُوْاهُ رَافَةً وَّرَحْمَةً وَّرَهْبَانِيَّةٍ اِبْتَدَعُوْاهَا مَا كَتَبْنَا هَاعَلَيْهِمُ اِلّابْتِغَاءَ رِضْوَانِ اللهِ

“আমি তাদের আত্মায়, যারা তাঁর অনুসরণ করেছেন, আরাম ও রহমত দান করেছি সন্ন্যাসবাদ তারাই প্রবর্তন করেছিল; আমি তাদেরকে এর হুকুম দিইনি। আল্লাহর রেজামন্দির উদ্দেশ্যে এর সূচনা করেছিল” পুনরায় ইরশাদ করেন- فَاَتْيَنَا الَّذِيْنَ امَنُوْا مِنْهُمْ اَجْرَهُمْ “তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে,  আমি ওদেরকে পুরস্কার দিয়েছি”
এ আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, ঈসায়ীগণ বিদআতে হাসানাহ অর্থাৎ সংসার ত্যাগী হওয়াটা আবিস্কার করলো, আল্লাহ তায়ালা এর প্রশংসা করলেন এবং এর জন্য পুরস্কারও দিলেন। তবে হ্যাঁ, যারা একে চালু রাখতে পারেনি, তাদের নিন্দা করা হয়েছে। বলা হয়েছে- فَمَارَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا “এটাও তারা যথাযথভাবে পালন করেনি”। লক্ষ্য করুন এখানে বিদআতের জন্য নিন্দা করা হয়নি বরং এটা চালু না রাখায় নিন্দা করা হয়েছে। তাই প্রমানিত হলো যে, বিদআতে হাসানা ভাল ও ছাওয়াবের কাজ। কিন্তু যথাযথ পালন না করা পাপ। خَيْرُ الْاُمُوْرِ اَدوْمُهَا “ সবচেয়ে ভাল কাজ হচ্ছে ওটার উপর অটল থাকা”। সুতরাং মুসলমানগণ যেন যথাযথভাবে মীলাদ মাহফিল ইত্যাদি উদযাপন করেন। মিশকাত শরীফের الاعتصام   অধ্যায়ের প্রথম হাদীসে আছে।

مَنْ اَحْدَثَ فِىْ اَمْرِنَا هذَا مَالَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَد

(যে ব্যক্তি আমার এ ধর্মে ওই ধরনের আকীদার প্রচলন করে, যা ধর্মের বিপরীত, সে অভিশপ্ত।) আমি উপরোক্ত হাদীসে শব্দের অর্থ আকীদা এজন্য করেছিল যে ধর্ম হচ্ছে আকীদার অপর নাম। গৌণ আমল সমূহের ক্ষেত্রে, যেমন:- বেনামাযী গুনাহগার বটে, কিন্তু বেদীন বা কাফির নয়, অথচ মন্দ আকীদা পোষণকারী হয়তো গোমরা, না হয় কাফির। এ প্রসংগে ‘মিরকাত’ গ্রন্থে বর্ণিত আছে।

وَالْمَعْنى اَنَّ مَنْ اَحْدَثَ فِى الْاِسْلَامِ رَايًا فَهُوَ مَرْدُوْد عَلَيْهِ اَقُوْلُ فِىْ وَصْفِ هَذَا الْاَمْرِ اِشَارَة اِلى اَنَّ اَمْرَ الْاِسْلَامِ كَمَلَ

( যে কেউ ইসলামে এ ধরণের আকীদা প্রচলন করে, যা ধর্মের পরিপন্থী সে মরদুদ। আমি বলতে চাই যে  هذالامر দ্বারা ওদিকে ইংগিত করা হয়েছে যে ইসলামের ব্যাপারটা পরিপূর্ণ হয়েছে।
প্রমাণিত হলো বিদআত আকীদাকে বলা হয়েছে। মিশকাত الايمان بالقدرঅধ্যায়ে উল্লেখিত আছে হযরত ইবনে উমর (রা:) কে কেউ বললেন অমুক ব্যক্তি আপনাকে সালাম দিয়েছেন। তখন তিনি বললেন-

بَلَغَنِىْ اَنَّهُ قَدْ اَحْدَثَ فَاِنْ كَانَ اَحْدَثَ فَلَا تُقْرِئَه مِنِّى السَّلَامَ

(আমি জানতে পারলাম যে, সে বিদআতী হয়ে গেছে। তা যদি হয়, তাকে আমার সালাম বলবেন না।) জিজ্ঞাসা করা হলো বিদআতী কিভাবে হতে পারে? ফরমালেন

يَقُوْلُ يَكُوْنُ فِىْ اُمَّتِىْ خَسْفٌ وَمَسْخٌ اَوْقَذْفٌ فِىْ اَهْلِ الْقَدْرِ

(হুযুর আলাইহিসসালাম ইরশাদ ফরমাতেন যে, আমার উম্মতের মধ্যে কদরীয়া সম্প্রদায়ের বেলায় ভূমি ধ্বসে যাবে, চেহারা বিকৃত হবে, অথবা পাথর বর্ষিত হবে।)
প্রতিভাত হলো যে, কদরীয়া ফিরকাকে অর্থাৎ যারা তকদীরকে অস্বীকার করতো তাদেরকে বিদআতী বলা হয়েছে। দুররুল মুখতারের কিতাবুল সালাত  الامت শীর্ষক অধ্যায়ে বর্নিত আছে।

وَمَبْتَدَعٍ اَىْ صَاحِبِ بِدْعَةٍ وَهِىْ اِعْتِقَادُ خِلَافِ الْمَعْرُوْفِ عَنِ الرَّسُوْلِ

(বিদআতী ইমামের পিছনে নামায পড়া মাকরূহ। বিদআত হচ্ছে সেই আকীদার বিপরীত আকীদা পোষন করা যা হুজুর আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম থেকে প্রসিদ্ধ লাভ করেছেন।
উপরোক্ত ভাষ্য থেকে বোঝা গেল, বিদআত নতুন ও মন্দ আকীদাকে বলা হয়। হাদীস সমূহে বিদআত ও বিদআতী সম্পর্কে যে কঠিন হুমকি দেয়া হেয়েছে, এর দ্বারা আকীদাগত বিদআতকে বোঝানো হয়েছে। হাদীস শরীফে আছে যে, বিদআতীর (আকীদাগত) সম্মান করলো সে যেন ইসলামকে ধবংশ করার ব্যাপারে সাহায্য করলো। ফাতওয়ায়ে রশীদিয়া প্রথম খন্ড কিতাবুল বিদআতের ৯০ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত আছে- যে, বিদআতের ব্যপারে কঠিন হুমকি দেয়া হয়েছে, তা হচ্ছে আকীদাগত বিদআত যেমন :- রাপেজী ও খারেজীদের বিদআত।
আমলী বিদআত সেসব কার্যবলীকে বলা হয়, যা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র যুগের পরে, দুনিয়াবী বা ধর্মীয় হোক সাহাবায়ে কিরামের যুগে বা এর পরে আবিস্কৃত হয়েছে। ‘মিরকাত’  الاعتصام অধ্যায়ে উল্লেখিত আছে।

 وَفِى الشَّرْعِ اِحْدَاثُ مَالَمْ يَكُنْ فِىْ عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ

বিদআত হচ্ছে শরীয়তে ওই ধরনের কাজের সূচনা করা, যা হুযুর আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের যুগে ছিল না। আশআতুল লুমআতে সেই একই অধ্যায়ে বর্ণিত আছে-
“যে কাজ হুযুর আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের পরে সূচিত হয়েছে, তা বিদআত”
উপরোক্ত ইবারতদ্বয়ে দীনের কাজের শর্তও নেই আর সাহাবায়ে কিরামের যুগের কথাও উল্লেখ নেই, যে কোন কাজ দুনিয়াবী হোক বা ধর্মীয়, যা হুজুর আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের পরে যে কোন সময়ে সাহাবায়ে কিরামের যুগে বা এর পরে চালু হয়েছে, তা বিদআত হিসেবে গণ্য। তবে প্রচলিত ভাষায় সাহাবায়ে কিরামের আবিষ্কারকে সুন্নাতে সাহাবা বলা হয় বিদআত বলা হয় না। এটা  প্রচলন মাত্র, না হয় হযরত ফারুকে আযম (রা:) তারাবীর নামাযে নিয়মিত জামআতের প্রবর্তন করে বলতেন না- نِعْمَةُ الْبِدْ عَةُ هذِه “এতো খুবই উত্তম বিদআত”
আমলী বিদআত দু প্রকার, বিদআতে হাসানাহ ও বিদআতে সাইয়া। বিদআতে হাসান ওই ধরণের নয়া কাজকে বলা হয়, যা কোন সুন্নাতের বিপরীত নয়। যেমন:- মীলাদ মাহফীল, ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ, নিত্য নতুন উন্নতমানের খানাপিনা, ছাপাখানায় কুরআন শরীফ ও ধর্মীয় কিতাব ছাপানো ইত্যাদি এবং বিদআতে সাইয়া ওইসব কাজকে বলা হয়, যা কোন সুন্নাতের বিপরীত বা কোন সুন্নাতকে বিলুপ্তকারী হিসেবে প্রতিভাত হয়। যেমন:- জুমআ ও উভয় ঈদে আরবী বাদ দিয়ে অন্য ভাষায় খুৎবা পাঠ করা বা মাইকের সাহায্যে নামায পড়া বা পড়ানো। কেননা এর ফলে আরবী ভাষায় খুৎবা পাঠ করা এবং তাকবীর দেয়া অর্থাৎ তকবীরের সাহায্যে আওয়াজ পৌছানো যে সুন্নত, তা লুপ্ত হয়ে যায়। বিদআতে হাসানা জায়েয বরং কোন সময় মুস্তাহাব ও ওয়াজিবে পরিণত হয়। আর বিদআতে সাইয়া হচ্ছে মাকরূহ তানযিহী বা মাকরূহ তাহরিমী অথবা হারাম। এ প্রকারভেদকে আমি সামনে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করবো।
বিদআতে হাসানা ও বিদআতে সাইয়ার প্রমাণ শুনুন- আশআতুল লুমআত গ্রন্থের প্রথম খন্ডে   الاعتصام   হাদীছটি   وكل بدعة ضلالة প্রসংগে উল্লেখিত আছে।
যে বিদআত ধর্মের মূলনীতি, নিয়ম কানুন ও সুন্নাতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এর সাথে কিয়াস করা হয়েছে, একে বিদআতে হাসানা বলা হয়। আর যা বিপরীত, সেটাকে বিদআতে গুমরাহী বলা হয়।
মিশকাত শরীফের العلم অধ্যায়ে বর্ণিত আছে।
( যে কেউ ইসলামের মধ্যে ভাল রীতি প্রচলন করেন, তিনি এর জন্য ছাওয়াব পাবেন; যারা এর উপর আমল করবেন, এর জন্যও ছাওয়াব পাবেন, তবে তাঁদের ছাওয়াবের মধ্যে কোন কমতি হবে না; এবং যারা ইসলামে মন্দরীতি প্রচলন করে, এর জন্য তাদের পাপ হবে এবং যারা এর উপর আমল করবে, তার জন্যও পাপের ভাগী হবে, তবে ওদের পাপের বেলায় কোন কমতি হবে না।) সুতরাং বোঝা গেল যে, ইসলামে কোন ভাল কাজের প্রচলন করাটা হচ্ছে ছাওয়াবের কাজ আর মন্দ কাজের সূচনা করাটা হচ্ছে পাপের ভাগী হওয়া।
ফাতওয়ায়ে শামীর ভুমিকায় ইমাম আবু হানীফা (রহ:) এর ফযীলত বর্ণনা প্রসংগে উল্লেখিত আছে।
উলামায়ে কিরাম বলেন- এসব হাদীস সমূহ ইসলামের কানুন হিসেবে প্রযোজ্য- যে কেউ ইসলামে কোন মন্দ কাজের সূচনা করলে সে এর উপর সমস্ত আমলকারীদের গুনাহের ভাগী হবে; আর যে ব্যক্তি কোন ভাল কাজের প্রচলন করেন, তিনি কিয়ামত পর্যন্ত সমস্ত আমলকারীদের ছওয়াবের ভাগী হবেন।
এর থেকেও প্রমাণিত হলো ভাল বিদআতে ছওয়াব আছে ও মন্দ বিদআতে গুনাহ হয়।
যেটা সুন্নাতের বিপরীত, সেটা হচ্ছে মন্দ বিদআত । এর প্রমাণও প্রত্যক্ষ করুন: মিশকাত শরীফের   الاعتصام অধ্যায়ে উল্লেখ আছে-

مَنْ اَحْدَثَ فِىْ اَمْرِنَا هذَا مَاليَسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ

“যে ব্যক্তি আমার ধর্মে নতুন এমন কোন কিছু প্রচলন করলো, যা ধর্মের মধ্যে নেই, তাহলে সে মরদুদ হিসেবে গণ্য” ‘ধর্মের মধ্যে নেই’ এর ভাবার্থ হলো ধর্মের বিপরীত। যেমন আশআতুল লুমআতে এ হাদীছের ব্যাখ্যা প্রসংগে বর্ণিত আছে- এর দ্বারা এটাই বোঝানো হয়েছে যা ধর্মের বিপরীত বা ধর্ম পরিবর্তনকারী।
মিশকাত শরীফের সেই একই অধ্যায়ে الاعتصام এর তৃতীয় পরিচ্ছেদে উল্লেখিত আছে।

مَااَحْدَثَ قَوْمٌ بِدْعَةً اِلَّا رُفِعَ مِثْلُهَا مِنْ السُّنَّةِ فَتَمَسُّكٌ بِسُنَّةٍ

“ যে কোন কওম যে পরিমাণ বিদআতের সূচনা করে, সে পরিমান সুন্নাত বিলুপ্ত হয়ে যায়। সুতরাং সুন্নাতকে গ্রহণ করা বিদআতের প্রচলন করা থেকে উত্তম।
এর ব্যাখ্যা প্রসংগে ‘আশআতুল লুমআতে’ উল্লেখিত আছে।
“যেহেতু বিদআতের সূচনা করাটা হচ্ছে সুন্নাত বিলুপ্তির সহায়ক, সেহেতু সুন্নাতের উপর অটল থাকাটা হবে বিদআত প্রতিরোধের সহায়ক।

 হাদীছ ও এর ব্যাখ্যা থেকে এটা বোঝা গেল যে, বিদআতে সাইয়া অর্থাৎ মন্দ বিদআত হচ্ছে, যার দ্বারা সুন্নাতের বিলুপ্তি ঘটে। ইতিপূর্বে এর উদাহরণসমূহ দেয়া হয়েছে। বিদআতে হাসানা ও বিদআতে সাইয়ার পার্থক্য ভালভাবে স্বরণ রাখা দরকার । কেননা এ ক্ষেত্রে প্রায়শই ধোকা দেয়া হয়। -সূত্রঃ জা’আল হক ২য় খন্ড-

 

বিদআতের প্রদত্ত সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ প্রসংগে উত্থাপিত আপত্তিসমূহ এবং এসবের জবাব

আমি বিদআতে আমলী প্রসংগে বলেছি, যে, ধর্মীয় বা দুনিয়াবী যে কাজ হুজুর (স:) এর পবিত্র যুগের পরে, হয়তো সাহাবায়ে কিরামের যুগে বা এর পরে আবিস্কৃত হয়েছে, তা বিদআত। এ প্রসংগে দুটি প্রসিদ্ধ আপত্তি আছে। 

আপত্তি নং ১- বিদআত এমন ধর্মীয় কাজকে কেবল বলা হবে, যা হুযুর আলাইহিসসালাতু ওয়াস সালামের পরে চালু হয়েছে। দুনিয়াবী নতুন কাজ বিদআত নয়। সুতরাং মিলাদ মাহফিল ইত্যাদি বিদআত কিন্তু তার-বার্তা, টেলিফোন, রেলগাড়ীতে আরোহন বিদআত নয়। কেননা হাদীস শরীফে আছে-

من احدث فى امرنا هذا ماليس منه فهو رد

(যে ব্যক্তি আমার ধর্মে নতুন কোন কিছু চালু করে, সে মরদুদ( ধর্মত্যাগী)।)

امرنا –  শব্দ দ্বারা প্রতীয়মান হচ্ছে যে, পার্থিব আবিস্কৃত বস্তুসমূহ বিদআত নয় এবং ধর্মীয় বিদআত বলতে কোনটাই হাসানা (উত্তম) নয়, সবই হারাম। কেননা হাদীস শরীফে সে সবের হোতাকে মরদুদ বলা হয়। 

উত্তর :- ধর্মীয় কাজের শর্তারোপ করাটা মনগড়া কথা এবং সহীহ হাদীস, উলামায়ে কিরাম, ফকীহগণ ও মুহাদ্দিছিনে কিরামের উক্তি সমূহের বিপরীত। হাদীছ শরীফে আছে- كل محدث بدعة প্রত্যেক নতুন কাজ বিদআত। এখানে ধর্মীয় বা দুনিয়াবী কাজের কোন উল্লেখ নেই। অধিকন্তু আমি মিশকাত শরীফের ব্যখ্যা গ্রন্থ ‘আশআতুল লুমআত ও মিরকাতের’ ভাষ্য উদ্ধৃত করেছি; দ্বীনি কোন শর্তারোপ করা হয়নি। তদুপরি আমি প্রথম অধ্যায়ে মিরকাত ও শামীর ইবারত উদ্ধৃত করে দেখিয়েছি যে গ্রন্থকারদ্বয় উন্নমানের খাদ্য পরিবেশন, ভাল কাপড় পরিধান করা বিদআতে জায়েয হিসেবে গন্য করেছেন। অথচ এসব দুনিয়াবী কাজ। কিন্তু এগুলোকে বিদআত হিসেব গণ্য করেছেন। অথচ এসব দুনিয়াবী কাজ। কিন্তু এগুলোকে বিদআত হিসেবে গন্য করেছেন। সুতরাং ওই ধরণের শর্তারোপ করাটা ভুল। যদি এটা মেনেও নেয়া হয় যে বিদআতের ক্ষেত্রে দ্বীনি কাজের শর্ত আছে, তাতেও কিছু আসে যায়না। দ্বীনি কাজতো ওগুলোকে বলা হয়, যার ছওয়াব পাওয়া যায়। মুস্তাহাব, নফল, ওয়াজিব ও ফরয কাজ সমূহ সবই ধর্মীয় কাজ। এগুলো মানুষ ছওয়াবের উদ্দেশ্যে করে থাকে। দুনিয়াবী কোন কাজ সৎ উদ্দেশ্যে করা হলে, এর জন্য ছওয়াব পাওয়া যায়। হাদীছ শরীফে আছে মুসলমানের সাথে প্রপুল্ল মন নিয়ে সাক্ষাৎ করলে ছওয়াব পাওয়া যায়। حتى القمة ترفعها فى امرأتك  এমনকি স্ত্রীর মুখে যে গ্রসটি তুলে দেওয়া হয়, তাতেও ছাওয়াব রয়েছে। এখন বলুন, সৎ নিয়তে পোলাও খাওয়াটা বিদআত কিনা? আর দ্বীনি কাজের শর্তারোপ করাতে আপনাদের কোন লাভ নেই। কেননা, দেওবন্দ মাদরাসা, ওখানকার সিলেবাস, দাওরায়ে হাদীছ, বেতন নিয়ে মাদরাসাতে পড়ানো, পরীক্ষা, ছুটি, কুরআন শরীফের হরকাত দেয়া, কুরআন ও বুখারী শরীফের খতম পড়া,যেমন :- দেওবন্দ মাদরাসায় পনের টাকা নিয়ে পড়া হয়, সমস্ত হাদীছের বিষয় সমূহ, হাদীস সমূহকে কিতাবের আকারে সংগৃহীত করা, কুরআন শরীফকে কাগজে সংরক্ষণ করা, এতে রূকু স্থাপন করা, ত্রিশ পারায় বিভক্ত করা ইত্যাদি সবই ধর্মীয় কাজ এবং বিদআত। কেননা হুযুর আলাইহিসসালাতু ওয়াস সালাম এর যুগে এসব কাজের কোনটাই হয়নি। বলুন, এগুলো হারাম, না হালাল? তাহলে মাহফিলে মিলাদ শরীফ ফাতিহা শরীফ কি অপরাধ করলো, যা হুযুর আলাইহিস সালামের যুগে প্রচলিত না থাকার দরুন হারাম সাব্যস্ত হলো আর উপরোক্ত সব কাজ হালাল গণ্য হলো? 

আমি মৌলবী ছানাউল্লাহ অমৃতসরীর সাথে মুনাজিরা করার সময় বলেছিলাম, আপনার চারটি বিষয়ের অর্থাৎ শিরক, বিদআত, দ্বীন ও ইবাদতের সঠিক ব্যখ্যা করুন, যাতে কোন আপত্তি না থাকে এবং ব্যাখ্যাটা যেন পরিপূর্ণ হয়। এরপর আমার থেকে যা খুশি পুরস্কার নিন। আল্লাহর উপর ভরসা করে বলতে পারি, দুনিয়ার কোন দেওবন্দী , কোন লা-মাজহাবী এবং এবং শিরক, বিদআত নিয়ে সারাণ বকবককারী ওই চারটি বিষয়ের বর্ণনা এমনভাবে কখনও করতে পারবে না, যাতে তাদের মাযহাবের উপর কোন আঁচ না লাগে। এখনও প্রত্যেক দেওবন্দী ও লা-মাজহাবীর কাছে সাধারণ ঘোষনা দেয়া আছে যে, ওইসবের এমন সঠিক বর্ণনা দিক, যাতে মাহফিলে মীলাদ হারাম আর রেসালায়ে কাসেম ও পরচায়ে আহলে হাদীছ হালাল প্রতিভাত হয়, আল্লাহর ওলীদের থেকে সাহায্য প্রার্থনা শিরক আর পুলিশ ও অন্যান্যদের থেকে সাহায্য চাওয়া ইসলাম সম্মত বোঝা যায়। ইনশা-আল্লাহ এসবের ব্যাখ্যা দিতে পারেনি এবং পারবেও না। তাদের উচিৎ এ ভিত্তিহীন মাযহাব থেকে তওবা করে যেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অর্ন্তভুক্ত হয়ে যায়। আল্লাহ তাওফীক দিক! তারা যে হাদীছটি পেশ করেছে, সেটা প্রসঙ্গে আমি উল্লেখ করেছি যে, ما  শব্দ দ্বারা আকাঈদ বোঝানো হয়েছে; কেননা ধর্ম হচ্ছে আকীদার উপর নির্ভরশীল। যদি আমল বোঝানো হয়, তাহলে ليس منه   বাক্যাংশ দ্বারা ওসব আমল বোঝানো হয়েছে, যা সুন্নত বা ধর্মের বিপরীত নয়। আমি এর রেফারেন্সও ইতিপূর্বে প্রদান করেছি। 

প্রত্যেক বিদআত হারাম। বিদআতে হাসানা বলতে কিছু নেই এ রকম বলাটা প্রথম অধ্যায়ে উল্লেখিত ওই হাদীছের বিপরীত, যেটাতে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে যে যিনি ইসলামে ভাল কাজের সূচনা করবেন, তিনি ছওয়াবের ভাগী হবেন; যে মন্দ কাজের প্রচলন করবে, সে আযাবের ভাগী হবেন। অধিকন্তু উক্ত অধ্যায়ে ফাতওয়ায়ে শামী, আশআতুল লুমআত ও মিরকাতের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রমাণ করা হয়েছে যে, বিদআত পাঁচ প্রকার- জায়েয, ওয়াজিব, মুস্তাহাব, মাকরূহ ও হারাম। যদি মেনে নেয়া হয় যে, প্রত্যেক বিদআত হারাম, তাহলে মাদরাসা ইত্যাদিকে ধ্বংস করে দিন। কেননা তাও হারাম। তাছাড়া ফিকহের মাসায়েল; সুফিয়ানে কিরামের যিকর আযকার, যা কুরূনে ছালাছার পরে আবিস্কৃত হয়েছে,সবই হারাম সাবস্ত হবে। শরীয়তের চারটি সিলসিলা হানাফী, শাফেয়ী, মালকী ও হাম্বলী অনুরূপ তরীকতের চারটি সিলসিলা কাদেরী, চিশতী, নকশেবন্দী ও সরওয়াদী। এ সব হুযুর আলাইহিস সালামের বরং সাহাবায়ে কিরামের পরে আবিস্কৃত হয়েছে। তদুপরি ইজতেহাদী মাসায়েল, আমলসমূহ, ওয়াজিফা, মুরাকাবা, চিল্লা ইত্যাদি সব পরে আবিস্কৃত হয়েছে। কিন্তু সকলেই এগুলোকে দ্বীনের কাজ মনে করে থাকেন। ছয় কালেমা, ঈমানে মুজমাল ও হঈমানে মুফাসসাল, কুরআনের ত্রিশ পারা হাদীছের প্রকারভেদ এবং আহকাম অর্থাৎ সহীহ জঈফ, হাসান বা মুফাসসিল ইতদ্যাদি পার্থক্যকরণ, আরবী মাদরাসার নেসাব, দস্তারবন্দীর সভা, সনদ বিতরণ, পাগড়ী পরানো ইত্যাদি বিষয়ের সম্পর্কে কুরআন ও হাদীছের কোন নিশান নেই। কোন দেওবন্দী ওহাবী ওসব বিষয়ের একটি নামও কোন হাদীছে দেখানে পারবে না। আবার হাদীছের সনদ এবং রিওয়ায়েতকারীদের স্যা গ্রহণ কুরূনে ছালাছ থেকে প্রমানিত নয়। মোট কথা শরীয়ত ও তরীকতের এমন কোন আমল নেই, যেখানে বিদআতের ছোঁয়াছ লাগেনি। 

মৌলবী ইসমাঈল ছাহেব তাঁর ‘সিরাতুল মুস্তাকী’ এর ৭ পৃষ্ঠায় বলেছেন। 

نيرا كابر طريقت نى اكرجه اذ كار ومراقبات ورياضت ومجاهدات كى تعيين مين جو راه ولايت كى مبادى هين كوشش كى هى ليكن بحكم بر سخن وقتى وبرنكته مقامى دارد- بربرقرن كى مطابق حال رياضت جداجدا بين- 

(তরীকতের শাইখগণ যদিওবা যিকর আযকারের, মুরাকাবাত, রিয়াজত ও মুজাহেদাতের ক্ষেত্রে যে পথটি বেলাদাত প্রাপ্তির সহায়ক, চেষ্টা করেছেন কিন্তু প্রত্যেকক সময় অনুযায়ী আশগাল এবং প্রত্যেক যুগ অনুযায়ী রিয়াজাতের অবস্থা ভিন্নভিন্ন ) 

এ ইবারত থেকে বোঝা গেল যে, তাসাউফের যিকর আযকার সমূহ সুফিয়ানে কিরামের আবিস্কৃত এবং যুগে নতুন আবিস্কার হচ্ছে এবং এটা বৈধ। বরং সুলুকের পথ তাদের দ্বারাই লাভ করা যায়। বলুন এখন আপনাদের সেই দাবী অর্থাৎ প্রত্যেক নতুন কাজ হারাম, কোথায় রইল? মানতেই হবে যে, যে কাজ সুন্নাতের বিপরীত তা মন্দ , বাকী সব পছন্দনীয় ও ভাল। 

আপত্তি নং- (২) বিরুদ্ধবাদীগণ এটাও বলে থাকেন যে, যে কাজ হুযুর আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বা সাহাবায়ে কিরাম বা তাবেঈন বা তবে তাবেঈনের আবিস্কৃত হয়ে থাকে, তা বিদআক নয়। এ যুগ সমূহের পর যা আবিস্কার সেটা বিদআত এবং এগুলোর কোনটাই জায়েজ নয়, সবই হারাম। সুতরাং প্রতীয়মান  হলো যে সাহাবায়ে কিরাম, তাবেঈন ও তবে তাবেঈনের আবিস্কৃত কাজসমূহ সুন্নাত হিসেবে গণ্য। এ জন্য মিশকাত শরীফের الاعتصام   অধ্যায়ে বর্ণিত আছে।

فعليكم بسنى وسنة الخلفاء الراشدين المهديين تمسكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ

(তোমাদের কর্তব্য আমার সুন্নাত ও হিদায়েত প্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে দাঁত দিয়ে শক্ত করে ধরে থাকা) 

উক্ত হাদীছ খুলাফায়ে রাশিদীনের কাজসমূহকে সুন্নাত বলা হয়েছে এবং এসবের অনুসরণ করার জন্য জোর দেয়া হয়েছে। এতে বোঝা যায় যে তাঁদের আবিস্কৃত কাজ সমূহ বিদআত নয়। মিশকাত শরীফ فضائل الصحابه   শীর্ষক অধ্যায়ে আছে-

خير امتى قرنى ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم ثم ان بعد ذالك قوما يشهدون ولا يستشهدون ويخونون ولايو تمنون


(আমার উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জামাত হচ্ছে আমার যুগের, অতঃপর যারা ওদের সাথে সংশ্লিষ্ঠ, এর পর যারা ওদের সাথে সংশ্লিষ্ট। অতঃপর এমন একটি গোত্রের আবির্ভাব হবে, যারা সাক্ষী হিসেবে মনোনীত না হয়েও সাক্ষ্য দিবে, বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং তারা বিশ্বস্ত হবে না।) 

এতে বোঝা গেল যে ভাল যুগ হচ্ছে তিনটা- সাহাবায়ে কিরাম, তাবেঈন ও তবে তাবঈনের যুগ। এর পর হচ্ছে মন্দ যুগ, তাই যা আবিস্কৃত হবে, তা ভাল অর্থাৎ সুন্নাত এবং মন্দ যুগ যা আবিস্কৃত হবে, তা মন্দ অর্থাৎ বিদআত। মিশকাত শরীফের فضائل الصحابة  অধ্যায়ে আরও উল্লেখ আছে-

تفترق امتى على ثلث وسيعين ملة كلهم فى النار الا واجدة قالوا من هى يارسول الله قال انا عليه واصحابى

(আমার উম্মত তিয়াত্তর ফিরকায় বিভক্ত হবে এবং এক ফিরকা ব্যতীত বাকী সব জাহান্নামী হবে। আরয করা হলো ইয়া রাসুলুল্লাহ (স:) সেই ফিরকা কোনটি? ইরশাদ ফরমালেন যার উপর আমি ও আমার সাহাবা রয়েছেন) 

অতএব বোঝা গেল, সাহাবায়ে কিরামের অনুসরন হচ্ছে বেহেশতের পথ। এজন্য তাদের আবিস্কৃত বিষয়সমূহকে বিদআত বলা যায় না। 

মিশকাত শরীফেd فضائل الصحابة অধ্যায়ে আরও উল্লেখ আছে-

 اصحابى كالنجوم فبايهم اقتديتم اهتديتم

(আমার সাহাবাগণ হচ্ছেন উজ্জল নত্রের মত । তুমি যে কারো অনুসরণ কর না কেন, সঠিক পথ পেয়ে যাবে।) 

এর থেকেও প্রমানিত হয়, সাহাবায়ে কিরামের অনুসরণ নাজাতের সোপান। সুতরাং, সাহাবীদের আবিস্কৃত বিষয়সমূহ বিদআত নয় কেননা বিদআত তো হচ্ছে পথভ্রষ্টকারী। 

উত্তর:- এ ধরণের প্রশ্ন কেবল ধোঁকা মাত্র। আমি মিশকাত শরীফের প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘মিরকাত’ ও ‘আশআতুল লুমআত’ এর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রমান করেছি যে বিদআত হচ্ছে- যে কাজ হুযুর আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের পরে চালু হয়েছে। ওখানে সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনের কোন উল্লেখ নেই। অধিকন্তু মিশকাত শরীফের قيام شهر رمضان  শীর্ষক অধ্যায়ে আছে- হযরত উমর (রা:) স্বীয় খিলাফাতের যুগে নিয়মিতভাবে জামতাত সহকারে তারাবীর নামায আদায় করার হুকুম দিয়েছিলেন এবং জামাত অনুষ্ঠিত হতে দেখে বলেছেন نعمت البدعة هذه-   এতো বড়ই ভাল বেদআত। দেখুন হযরত উমর (রা:) নিজেই নিজের প্রচলিত কাজকে বিদআত হাসানা বলেছেন। তিরমিযী, ইবনে মাজা,  নাসায়ী এবং মিশকাত শরীফে القلوب শীর্ষক অধ্যায়ে হযরত আবু মালেক আশয়ারী (রা:) বর্ণনা করেন- আমার পিতাকে ফজর নামাযে কুনুতে নাযেলা পড়া প্রসংগে জিজ্ঞাসা করেছিলাম । তিনি ফরমান, হে বৎস, এ হচ্ছে বিদআত। দেকুন, সাহাবায়ে কিরামের যুগের কাজাকে বিদআতে সাইয়া বলেছেন। যদি সাহাবায়ে কিরামের আবিস্কৃত বিষয়সমূহ বিদআত না হতো, তাহলে তারাবীর জামাতকে কেন বিদআতে হাসানা বলা হলো এবং কুনুতে নাযেলাকে কেন বিদআতে সাইয়া আখ্যায়িত করা হলো? ও সময়তো বিদআতের কাল ছিল না। তৃতীয়তঃ প্রথম অধ্যায়ে মিরকাতের বরাত দিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে যে তারাবীর জামাত বিদআতে হাসানা অর্থাৎ তারাবীহ হচ্ছে সুন্নাত এবং জামাত সহকারে আদায় করা হচ্ছে বিদআতে হাসানা। তারা হযরত উমর ফারুকের (রা:) কাজকে বিদআতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। চতুর্থতঃ বুখারী শরীফের দ্বিতীয় খন্ড  كتاب فضائل القران  এর جمع القران   শীর্ষক অধ্যায়ে আছে- হযরত সিদ্দিক (রা:) হযরত যায়েদ ইবনে ছাবেত (রা:) কে যখন কুরআনে পাক একত্রিত করার হুকুম দিলেন, তখন তিনি আরয করলেন।

 كيف تفعلون شيئالم يفعله رسول الله صلى الله عليه وسلم قال هو خير-  

আপনি এ কাজ কেন করতে যাচ্ছেন, যা হুযুর আলাইহিস সালাম করেননি। হযরত সিদ্দিক (রা:) ফরমালেন, এতো ভাল কাজ। অর্থাৎ হযরত যায়েদ ইবনে ছাবেত হযরত সিদ্দীক (রা:) এর সমীপে আরয করলেন, কুরআন একত্রিতকরণ হচ্ছে বিদআত। তাই আপনি কেন বিদআতে হাত দিচ্ছেন। তখন হযরত সিদ্দীক (রা:) ইরশাদ ফরমালেন- বিদআত বটে তবে উত্তম বিদআত। এর থেকে প্রমাণিত হলো সাহাবায়ে কিরামের কাজ হচ্ছে বিদআতে হাসানা। বিরূদ্ধবাদীদের দলীলসমূহের জবাব নিম্নে প্রদত্ত হলো:-

فعليكم بسنتى وسنة الخلفاء الراشدين – 

  

এ হাদীছ খুলাফায়ে রাশেদীনের উক্তি ও কাজসমূহকে শাব্দিক অর্থে সুন্নাত বলা হয়েছে। অর্থাৎ হে মুসলমানগণ, আপনারা আমার ও আমার খুলাফায়ে রাশিদীনের পথসমূহ অনুসরণ করুন। যেমন আমি প্রথম অধ্যায়ে একটি হাদীছ উদ্ধৃত করেছি-

من سن فى الاسلام سنة حسنة فله اجرها ومن سن فى الاسلام سنة سيئة-

এ হাদীছে সুন্নাত অর্থ তরীকা বা পথ। কুরআন করীম ইরশাদ ফরমান-

 سنة من قد ارسلنا قبلك من رسلنا ولا تجد لسنتنا تحويلا-

আরও ইরশাদ ফরমান- سنة الله التى قد خلت   এ আয়াত ও হাদীছে উল্লেখিত সুন্নাতদ্বারা শরয়ী সুন্নাত বুঝানো হয়েছে এবং এটি বিদআতের মুকাবিলায় নয় বরং এখানে তরীকা বা পন্থা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। সুন্নাতে ইলাহিয়া হচ্ছে আল্লাহর তরীকা, সুন্নাতে আম্বিয়া হচ্ছে নবীদের তরীকা এবং অন্যান্য। 

فعليكم بسنتى الخ  এ হাদীছের ব্যাখ্যায় প্রখ্যাত ‘আশআতুল লুমআত’ গ্রন্থে উল্লেখিত আছে-

وبحقيقت سنت خلفائـ راشدين بمان ييغمبر است كه درزمان انحضرت عليه السلام شهرت نيافته بود ودرزمان ايشان مشهور ومضاف به ايشان شده-

খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত বলতে আসলে সুন্নাতে নববী, যা হুযুর আলাইহিস সালামের সময় প্রকাশ পায়নি’ এর থেকে প্রতীয়মান হলো যে সুন্নাতে খুলাফা আসলে সুন্নাতে রসূলুল্লাহকেই বলা হয়, কিন্তু মুসলমানদের মধ্যে প্রচলনকারী হচ্ছেন খুলাফায়ে রাশেদীন। পঞ্চমতঃ মুহাদ্দিছ ও ফকীহগণ বলেন- খুলাফোয়ে রাশেদীনের নির্দেশ সুন্নাতের সাথে সংশ্লিষ্ট অর্থাৎ সুন্নাত নয়, সুন্নাতের সাথে সংযোজন করা হয়েছে। যদি তাদের আবিস্কৃত কাজ সুন্নাত সাব্যস্ত হতো, তাহলে সংযোজনের কিইবা অর্থ হতে পারে? নুরুল আনোয়ার গ্রন্থের শুরুতে আছে-

وقول الصحابى فيما يعقل ملحق بالقياس وفيما لايعقل فملحق بالسنة-

( সাহাবায়ে কিরামের যেসব বাণী যুক্তি নির্ভর, তা কিয়াসের সাথে সম্পৃক্ত আর যে সব বাণী যুক্তির উর্ধে, তা সুন্নাতের সাথে সম্পৃক্ত) যদি সাহাবায়ে কিরামের সমস্ত উক্তি ও কর্ম সুন্নাত বলে গণ্য হতো, তাহলে কিয়াস ও সুন্নাতের সাথে সম্পৃক্ততার কি অর্থ হতো? ‘আশআতুল লুমআত’ এ فعليكم بسنتى  এর প্রোপটে উল্লেখিত আছে-

يس برجه خلفائـ راشدين بدان كرده باشند- اكرجه باجتهاد وقياس ايشان بود موافق سنت نبوى است اطلاق بدعت بران نتوان كرد-

( যে বিষয়ে খুলাফায়ে রাশেদীন রায় দিয়েছেন, তা যদি নিজস্ব কিয়াস ও ইজতিহাদ দ্বারা হয় এবং সুন্নাতের নববী অনুযায়ী হয়, তবে তাকে বিদআত বলা সমচীন নয় ) এ ভাষ্য থেকে একেবারে সুস্পষ্টরূপে প্রতিভাত হলো যে, খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত শাব্দিক অর্থে বলা হয়েছে এবং শরয়ী সুন্নাতের সাথে সংশ্লিষ্ট। একে সম্মান স্বরূপ বিদআত বলা যাবে না। কেননা বিদআত বলতে প্রায় সময় বিদআতে সাইয়াকে বোঝানো হয়। 

(২) خير امتى قرنى   এ হাদীস থেকে এটাইতো বোঝা গেল যে এ তিন যুগ (কুরূনে ছালাছ) পর্যন্ত ভাল কাজ বেশি হবে। কিন্তু এর অর্থ এ নয় যে এ তিন যুগে যে কোন কাজ আবিস্কৃত হোক কিংবা যে কেউ আবিস্কার করুক, তা-ই সুন্নাত হিসেবে গণ্য হবে। এ হাদীছে সুন্নাত হওয়ার উল্লেখ কোথায় আছে? তাহলে জবরিয়া মাযহাব এবং কদরিয়া মাযহাব তাবেঈনের যমানায় আবির্ভুত হয়েছিল এবং ইমাম হুসাইন (রা:) এর শাহাদাত ও হাজ্জাজের জুলুম ওই যুগেই সংঘটিত হয়েছিল। তগহলে কি (মায়াজাল্লা) এগুলোকে সুন্নাত বলা হবে?
(৩-৪) مااناعليه واصحابى   (যার উপর আমি এবং আমার সাহাবা) এবং اصحابى كالنجوم   (আমার সাহাবাগণ উজ্জল লত্রের মত) এ হাদীসদ্বয় দ্বারা প্রমাণিত হয় যে সাহাবায়ে কিরামের অনুসরণ হচ্ছে হিদায়াত প্রাপ্তির সহায়ক এবং বিরোধিতা করা হচ্ছে গুমরাহীর নামান্তর। এটি নিঃসন্দেহে সঠিক এবং এর উপর প্রত্যেক মুসলানের আস্থা রয়েছে কিন্তু একথা কোথা থেকে বুঝা গেল যে তাদের প্রত্যেক কাজই শরয়ী সুন্নাহের অর্ন্তভুক্ত? অনেক সময় বিদআতে হাসানার অনুসরণও ওয়াজিব হয়ে পড়ে। যেমন মিশকাত শরীফের الاعتصام   অধ্যায়ে উল্লেখিত আছে-

اتبعوا السواد الاعظم فانه من شذشذ فى النار-

(বড়  জামাতের অনুসরণ করুন। যে এর থেকে পৃথক রইল, সে দোযখে পৃথক অবস্থায় থাকবে। ) আরও উল্লেখ আছে-

ماراه المؤمنون حسنا فهو عند الله حسن ومن فارق الجماعة شبرا  فقد خلع ريقة الاسلام عن عنقه-

মুসলমান যাকে ভাল মনে করে, আল্লাহর কাছেও সে ভাল। মুসলমানগণের জামাত থেকে কনিষ্ঠাঙ্গুলী পরিমাণও পৃথক রইল, সে যেন ইসরামের রশি নিজ গলা থেকে ফেলে দিল। কুরআনে কারীমে আছে-

ويتبع غير سبيل المؤمنين نوله ماتولى ونصله جهنم –

যে মুসলমানের পথ থেকে ভিন্ন পথ চলে, আমি তাকে সে অবস্থায় ছেড়ে দেব এবং তাকে দোযখে প্রবেশ করাবো। 

এ আয়াত ও হাদীছ থেকে বোঝা গেল যে আকীদা ও আমলসমূহের ব্যাপারে মুসলমানদের বড় জামাতের অনুসরণ করা প্রত্যেকের জন্য প্রয়োজন; ওদের বিরোধিতা করা মানে দোযখের পথ পরিস্কার করা। কিন্তু তা দিয়ে এ কথা প্রমাণিত হয় না যে মুসলিম জামাতের আবিস্কৃত কোন কাজই বিদআত নয়, সবই সুন্নাত সাব্যস্ত হবে। তা কখনও হতে পারে না। বিদআতই হবে, তবে বিদআতে হাসানা। যেভাবে সাহাবায়ে কিরামের আবিস্কৃতকাজকে সুন্নাতে সাহাবা বলা হয়, তদ্রুপ সলফে সালেহীনের আবিস্কৃত  কাজকে শাব্দিক অর্থে সুন্নাতে সালফ অর্থাৎ পছন্দনীয় ধর্মীয় তরীকা বলা হয়। 

বিশেষ দ্রষ্টব্য : যারা প্রত্যেক বিদআত অর্থাৎ প্রত্যেক নতুন কাজকে হারাম মনে করে থাকেন, তারা এ মূলনীতির ব্যাপারে কি বলবেন-  الاصل فى الشياء الاباحة  ( যে সমস্ত বস্তু মুলতঃ মুবাহ। অর্থাৎ প্রত্যেক বস্তু মুলতঃ মুবাহ এবং হালাল তবে যদি শরীয়ত কোন বস্তুকে নিষেধ করে তাহলে সেটা হারাম বা নিষিদ্ধ গণ্য হবে। সুতরাং নতুন হওয়ার জন্য নয় বরং নিষেধাজ্ঞা দ্বারা হারাম প্রমাণিত হবে। এ মূলনীতিটা কুরআনে পাক, সহীহ হাদীছ সমূহ ও ফকীহগণের উক্তিসমূহ থেকে প্রমাণিত এবং মুকাল্লিদের দাবীদার কোন ব্যক্তি এ মূলনীতি অস্বীকার করতে পারে না। কুরআন কারীম ইরশাদ ফরমান-

ياايها الذين امنوا لا تسئلوا  عن اشياء  ان تبدلكم تسؤكم وان تسئلوا عنها حين ينزل القران تبد لكم عفا الله عنها-

(হে ঈমানদারগণ, এ রকম বিষয়সমূহ জিজ্ঞাসা করো না, যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে খারাপ লাগবে এবং যদি কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় ওসব বিষয়ে জিজ্ঞাসা কর, তাহলে প্রকাশ করে দেয়া হবে। আল্লাহ তাদেরকে মাফ করে দিয়েছেন। 

 এ থেকে বুঝা গেল যেটা সম্পর্কে হালাল হারাম কিছুই বলা হলো না, সেটা ক্ষমার যোগ্য। এজন্য কুরআন শরীফ, যে সব মহিলাদের বিবাহ করা হারাম, ওদের বর্ণনার পর ইরশাদ ফরমান- واحل لكم ما وراء ذالكم   (ওদের বাদ বাকী সমস্ত মহিলা তোমাদের জন্য হালাল) আরও ইরশাদ ফরমান- وقد فصل لكم ما حرم عليكم   ( তোমাদের কাছে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে ওসব বিষয়, যা তোমাদের জন্য হারাম) অর্থাৎ হালাল জিনিস সমূহের বিস্তারিত বিবরণের প্রয়োজন নেই, সব জিনিসিই হালাল তবে কিছু জিনিস নিষিদ্ধ রয়েছে, যার বিবরণ দেয়া হয়েছে। ওগুলো বাদ দিয়ে সবগুলো হালাল। মিশকাত শরীফ- كتاب الاطعمة باب اداب الطعام    এর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে উল্লেখিত আছে-

الحلال ما حل الله فى كتابه والحرام ما حرم الله فى كتابه وما سكت عنه فهو مما عفى عنه-

(হালাল হচ্ছে, যা আল্লাহ তাআলা স্বীয় কিতাবে (কুরআন) হালাল করেছেন আর হারাম হচ্ছে, যা আল্লাহ তাআলা স্বীয় কিতাবে হারাম করেছেন। এবং যেটা সম্পর্কে নীরব রয়েছে, সেটা মাফ)

এ হাদীছ থেকে বোঝা গেল জিনিস তিন রকমের হয়ে থাকে, প্রথমতঃ ওই ধরণের জিনিস, যার হালাল হওয়া সম্পর্কে কুরআনে সুষ্পষ্ট উল্লেখ আছে, দ্বিতীয়তঃ সে ধররেন জিনিস, যার হারাম হওয়ার সম্পর্কে নির্দেশ রয়েছে, তৃতীয়তঃ যে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি, তা মাফ। ফাতওয়ায়ে শামী প্রথম খন্ড কিতাবুত্তাহারাতশীর্ষক আলোচনায় উল্লেখিত আছে-

المختار ان الاباحة عند الجمهور من الحنفية والشافعية-

অধিকাংশ হানাফী ও শাফেঈদের এ মতামতই রয়েছে যে প্রত্যেক কিছু মূলত মুবাহ (পাপ-পূণ্য হীন) হয়ে থাকে । তাফসীরে খাযেন, রূহুল বয়ান, খাযায়েনুল ইরফান ও অন্যান্য তাফসীরেও একই রকম ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে, অর্থাৎ প্রত্যেক কিছু মূলতঃ মুবাহ; নিষেধাজ্ঞার ফলে নাজায়েয হয়ে যায়। 

এখন যারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের কাছে জিজ্ঞাসা করে যে মিলাদ শরীফ উদযাপন করাটা কোথায় লিখা আছে? বা হুযুর আলাইহিস সালাম বা সাহাবায়ে কিরাম, তাবেঈন বা তবে তাবঈন কখনো উদযাপন করেছিলেন কিনা? এটা নিছক ধোঁকা মাত্র। আহলে সুন্নাতের উচিত তাদের জিজ্ঞাসা করা- বলুন মীলাদ শরীফ করা যে হারাম, তা কোথায় লিখা আছে? যখন আল্লাহ হারাম করলোনা ; রাসূল আলাইহিস সালাম নিষেধ করলেন না এবং কোন দলীল থেকেও নিষেধোজ্ঞা প্রুমানিত হলো না, তাহলে আপনারা কোন যুক্তিতে হারাম বলেছেন? মীলাদ শরীফ ইত্যাদির প্রমাণ না থাকাটা জায়েয হওয়ারই লক্ষণ। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ ফরমান-

قل لا اجد فيما اوحى الى محرما على طعام يطعمه الا ان يكون ميتة  الاية-

বলুন, আমর প্রতি যে প্রত্যাদেশ হয়েছে, তাতে লোক যা আহার করে তার মধ্যে আমি কিছুই নিষিদ্ধ পাইনি, কেবল মরা….. ।

قل من حرم زينة الله التى اخرج لعباده والطيبات من الرزق الاية-

বলুন, আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের জন্য যে সব শোভার বস্তু ও বিশুদ্ধ জীবিকা সৃষ্টি করেছেন, তা কে নিষিদ্ধ করেছেন? 

এসব আয়াত থেকে প্রুমাণিত হলো যে, হারাম কোন প্রমাণ পাওয়া না গেলে হালালই প্রমানিত হয়, হারাম প্রমাণিত হয় না। অথচ তারা এর থেকে হারাম প্রমাণিত করেছেন। কি আশ্চর্য! এ একটা উল্টা যুক্তি। আচ্ছ বলুন দেখি, রেলগাড়ী যোগে ভ্রমণ, মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা কোথায় লিখা আছে? বা এটা যে হালাল বা কোন সাহাবা বা তাবেঈন যে করেছেন, এর কোন প্রমাণ আছে কি? অতএব এসব যেরূপ হালাল, তাও সেরূপ জায়েয এবং হালাল।

সূত্রঃ জা’আল হক