আওলিয়া কিরামের মাযাজের উপর ইমারত তৈরীর প্রমান

মুসলমানকে দু’শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। সাধারণ মুসলমানগণ এক শ্রেণীভুক্ত এবং উলামা, মাশায়েখ ও আওলিয়া কিরাম, যাদের তাযীম আসলে ইসলামেরই তাযীম, অন্য শ্রেণভূক্ত । (১) সাধারণ মুসলমানদের কবরকে পাকা করা বা এর উপর গম্বুজ তৈরী করা যেহেতু অনর্থক,  সেহেতু নিষেধ। তবে তাঁদের কবরের নিশানা ঠিক রাখার অভিপ্রায় মাটি ইত্যাদি দেয়া ও ফাতিহা ইত্যাদি পাঠ করা জায়েয। (২) উলামা, মাশায়িখ ও আওলিয়া কিরামের মধ্যে যাদের মাযার সমূহে জনগণের ভিড় থাকে, এবং লোকেরা ওখানে বসে কুরআনখানি, ফাতিহা ইত্যাদি পাঠ করে, আগতদের আরামের জন্য এবং ছাহেবে কবরের শান মান প্রকাশ করার জন্য এবং আশে-পাশে ছায়ার জন্য গম্বুজ বিশিষ্ট ঘর ইত্যাদি তৈরী শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয বরং সুন্নাতে সাহাবা দ্বারা প্রমাণিত। (৩) যেসব সাধারণ মুসলমানদের কবর সমূহ পাকা করা বা এর উপর গম্বুজ বিশিষ্ট ঘর তৈরী করা নিষেধ, তাদের কবর সমূহ যদি পাকা করে ফেলা হয়, তাহলে এগুলোকে ভেঙ্গে ফেলা হারাম। প্রথম মাসআলা সম্পর্কে সবাই একমত কিন্তু শেষের দু’মাসায়েল প্রসংগে আপত্তি রয়েছে। এজন্য আমি আলোচ্য বিষয়টাকে দুটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি। প্রথম অধ্যায়ে এর সমর্থনে প্রমাণ উপস্থাপন এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে এ প্রসংগে উত্থাপিত আপত্তি সমূহের জবাব দেয়া হয়েছে।

আওলিয়া কিরামের মাযাজের উপর ইমারত তৈরীর প্রমান

এখানে তিনটি বিষয় জানা আছে- এক, কবর পাকা করা; দুই, কবরকে সুন্নত পরিমাণ থেকে অর্থাৎ এক হাত থেকে বেশী উঁচু করা; তিন, কবরের আশে-পাশে ইমারত তৈরী জায়েয কিনা। আবার কবর পাকা করার দুটি রূপ রয়েছে। একটি হচ্ছে কবরের অভ্যন্তরীন অংশ পাকা করা, যা লাশের সাথে জড়িত থাকে, অপরটি হচ্ছে কবরের উপরাংশে পাকা করা, যা কবরের উপরে দেখা যায়।

(১) কবরের অভ্যন্তরীন অংশ পোড়া ইটদ্বারা পাকা করা এবং ওখানে লাকড়ী স্থাপন করা নিষেধ। তবে পাথর ও সিমেন্ট ব্যবহার করা জায়েয আছে। কেননা লাকড়ী ও ইটের মধ্যে আগুনের প্রভাব রয়েছে। কবরের বহিরাংশ সাধারণ মুসলমানদের বেলায় পাকা করা নিষেধ। কিন্তু বিশেষ বিশেষ উলামা ও মাশায়িখের জন্য জায়েয।

(২) কবরের চৌহদ্দি একহাত থেকে বেশী উঁচু করা নিষেধ। তবে যদি আশে-পাশে উঁচু করে কবরকে একহাত পরিমাণ উঁচু করা জায়েয।

(৩) কবরের আশে-পাশে বা কবরের সন্নিকটে কোন ইমারত তৈরী করা সাধারণ মুসলমানদের কবরের ক্ষেত্রে নিষেধ। কিন্তু ফকীহ ও আলিমগণের কবরের বেলায় জায়েয। এর দলীল সমূহ নিম্নে প্রদত্ত হলো।

(১) মিশকাত শরীফের কিতাবুল জানায়েযের الدفن শীর্ষক অধ্যায়ে আবু দাউদ শরীফের বরাত দিয়ে বর্ণিত আছে- হযরত উছমান ইবনে মযউন (রা:) কে যখন দাফন করা হয়, তখন হুযুর আলাইহিস সালাম তাঁর কবরের শিয়রে একটি পাথর রাখলেন এবং ইরশাদ ফরমান-

اَعْلَمْ بِهَا قَبْرَ اَخِىْ وَاُدْفِنُ اِلَيْهِ مَنْ مَاتَ مِنْ اَهْلِىْ

 

আমরা এর দ্বারা নিজের ভাইয়ের কবর সনাক্ত করতে পারবো এবং এখানে স্বীয় আহলে বাইয়েত লাশ সমূহ দাফন করবো।

(২) বুখারী শরীফে কিতাবুল জানায়েয  الجريد على القبرশীর্ষক অধ্যায়ে অন্য হাদীছের সনদের সাথে সংযুক্ত একটি হাদীছ হযরত খারেজা (রা:) থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন আমরা হযরত উছমানের যুগে জীবীত ছিলেন:

اَنَّ اَشَدَّ نَا وَثُبِةَ الَّذِىْ يَثِبُ قَبْرَ عُثْمَانَ اِبْنِ مَظْعُوْنٍ حَتّى يُجَاوِزَهُ

 

তখন আমাদের মধ্যে সেই বড় লম্ফদানকারী ছিলেন, যিনি উছমান ইবনে মযউনের কবরকে অতিক্রম করতে পারতেন।

মিশকাত শরীফের রেওয়ায়েত থেকে বোঝা গেল- হযরত উছমান ইবনে মযউনের কবরের মাথার দিকে পাথর ছিল এবং বুখারী শরীফের রেওয়াতে থেকে বোঝা যায় তাঁর কবরের উপরিভাগ ঐ পাথরের দ্বারা আচ্ছাদিত ছিল। উভয় রেওয়ায়েতটা এভাবে একত্রিতকরণ করা  যায় যে মিশকাত শরীফে কবরের মাথার দিকে যেই পাথর স্থাপন করার কথা বলা হয়েছে এর অর্থ হচ্ছে কবরের উপরই মাথার দিক থেকে এটা স্থাপন করা হয়েছে। বা ভাবার্থ এটাও হতে পারে যে কবরটা সম্পূর্ন উক্ত পাথরের ছিল, কিন্তু এ হাদীছে শুধু শিয়রের কথা উল্লেখ হয়েছে। এ দু’হাদীছ থেকে এটা প্রমাণিত হলো যে কোন বিশেষ কবরের চিহ্ন বহাল রাখার জন্য কবরকে কিছু উঁচু করে দেয়া হয় বা পাথর ইত্যাদি দ্বারা পাকা করে দেয়া হয়, তা জায়েয আছে, যেন বুঝতে পারা যায় যে এটা কোন বুযুর্গের কবর। এর আগে আরও দুটি মাসআলা জানা গেছে। অধিকন্তু ফকীহগণ বলেন- যদি মাটি নরম হয় এবং লোহা বা কাঠের বাক্সে লাশ রেখে দাফন করতে হয়, তাহলে ভিতরের অংশের চারিদিকে মাটির সাথে মিলিয়ে দিন। (ফতওয়ায়ে শামী, আলমগীরী ও অন্যান্য কিতাবের دفن الميت  অধ্যায়ে দ্রষ্টব্য) এর থেকে আরও বোঝা গেল যে কবরের নিম্ন ভাগ কাঁচা হওয়া চাই। দুটি মাসায়েলই প্রমাণিত হলো।

(৩) উলামা মাশায়িখ ও আওলিয়া কিরামের মাযারের আশ-পাশে বা এর সন্নিকটে ইমারত তৈরী করা জায়েয। কুরআনে কারীম, সাহাবায়ে কিরাম ও সাধারণ মুসলমানদের আমল ও উলামায়ে কিরামের উক্তিসমূহ থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। কুরআন কারীম আসহাবে কাহাফের কাহিনী বর্ণনা প্রসংগে ইরশাদ করেন-

قَلَ الَّذِيْنَ غَلَبُوْا عَلى اَمْرِهِمْ لَنَتَّخِذَنَّ علَيْهِمْ مَسْجِدًا

 

তিনি বললেন, তাঁরা যে কাজে নিয়োজিত ছিলেন (ইবাদত বন্দেগীতে) তাঁদের সেই স্মৃতির উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করা হবে। তফসীরে রূহুল বয়ানে এ আয়াতের  بُنْيَانًا    ব্যাখ্যা প্রসংগে উল্লেখিত আছে-

لَايَعْلَمُ اَحَدٌ تُرْبَتَهُمْ وَتَكُوْنُ مَحْفُوْظَةً مِنْ تَطَرُّقِ النَّاسِ كَمَا حُفِظَتْ تُرْبَتُ رَسُوْلِ اللهِ بِالْحَظِيْرَةِ

 

তাঁরা প্রস্তাব দিলেন, আসহাবে কাহাফের জন্য এমন একটি প্রাচির তৈরী করুন, যা তাদের কবরকে পরিবেষ্টিত করবে এবং তাদের মাযার সমূহ জনগণের আনাগোনা থেকে হিফাজতে থাকবে, যেমন হুযুর আলাইহিস সালামের রওযা পাককে চার দেয়ালের দ্বারা পরিবেষ্টিত করা হয়েছে। কিন্তু তাদের এ প্রস্তাব আগ্রাহ্য হলো, মসজিদই নির্মাণ করা হলো। উক্ত রূহুল বয়ানে مَسْجِدًا  এর তাফসীর এভাবে করা হয়েছে-

يُصَلِّىْ فِيْهِ الْمُسْلِمُوْنَ وَيَتَبَرَّ كُوْنَ بِمَكَانِهِمْ

 

জনগণ সেখানে নামায আদায় করবে এবং ওদের থেকে বরকত হাসিল করবে। কুরআন কারীম সেসব লোকদের দুটি বক্তব্য উল্লেখ করেছেন; এক আসহাবে কাহাফের আস্তানার পাশে গম্বুজ ও সমাধি তৈরী করার পরামর্শ; দুই, ওদের সন্নিকটে মসজিদ তৈরী করার সিদ্ধান্ত । কুরআন করীম কোনটাকে অস্বীকার করেননি। যার ফলে প্রতীয়মান হলো যে, উভয় কাজটা তখনও জায়েয ছিল  এবং এখনও জায়েয আছে। যেমন উসুলের কিতাবসমূহ দ্বারা প্রমাণিত আছে-  شَرَائِع قَبْلِنَا يَلْزِمُنَا (আগের যুগের শরীয়ত আমাদের জন্য পালনীয়) হুযুর আলাইহিস সালামকে হযরত সিদ্দীকা (রা:) এর কুটিরে দাফন করা হয়। যদি এটা নাজায়েয হতো, তাহলে সাহাবায়ে কিরাম প্রথমে ওটা ভেংগে ফেলতেন, অত:পর দাফন করতেন, কিন্তু তা করলেন না। হযরত উমর (রা:) স্বীয় খিলাফতের যুগে এর চারিদিকে কাঁচা ইটের দেওয়াল তৈরী করে দিয়েছিলেন। অত:পর ওলিদ ইবনে আবদুল মালিকের যুগে সৈয়্যদেনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর সকল সাহাবায়ে কিরামের জীবীত থাকা অবস্থায় ঐ ইমারতটাকে খুবই মজবুত করেছেন এবং এতে পাথর স্থাপন করেছেন। যেমন সৈয়দ সমহুদী (রহ:) স্বীয়  خلاصة الوفا باخبار دار المصطفے নামক কিতাবের ১০ম পরিচ্ছেদের ১৯৬ পৃষ্টায় হুযুরা সম্পর্কিত আলোচনায় লিপিবদ্ধ করেছেন-

বুখারী শরীফের প্রথম খন্ড কিতাবুল জানায়েযের مَاجَاءَ فِىْ قَبْرِالنَّبِىِّ وَاَبِىْ بَكْرِ وعُمَرَ  শীর্ষক অধ্যায়ে হযরত ওরওয়াহ (রা:) থেকে বর্ণিত আছে- ওলিদ ইবনে আব্দুল মালিকের যুগে রসুলুল্লাহ আলাইহিস সালামের রাওযা পাকের একটি দেওয়াল ধসে পড়ে গিয়েছিল। যখন اَخَذُوْا  فِىْ بِنَائِه  সাহাবায়ে কিরাম একে মেরামত করার কাজে নিয়োজিত হলেন-

فَبَدَتْ لَهُمْ قَدْم فَفَزِعُوْا وَظَنُّوْا اَنَّهَا قَدَمُ النَّبِىِّ عَلَيْهِ السَّلَامُ

 

তখন একটি পা দৃষ্টিগোচর হলো। এতে তাঁরা ঘাবড়ে গেলেন এবং মনে করলেন এটা হুযুর আলাইহিস সালামের পবিত্র কদম মোবারক।

حَتّى قَالَ لَهُمْ عُرْوَةُ لَا وَاللهِ مَاهِىَ قَدَمُ النَّبِىِّ عَلَيْهِ السَّلَام مَاهِىَ اِلَّا قَدَمَ عُمَرَ

 

শেষ পর্যন্ত হযরত ওরওয়া (রা:) বললেন, খোদার কসম, এটা হুযুর আলাইহিস সালামের কদম নয়, এটা হযরত ফারুকের (রা:) কদম।

“জযবুল কুলুব ইলা দেয়ারিল মাহবুব” গ্রন্থে শেখ আব্দুল হক (র:) লিপিবদ্ধ করেছেন যে, ৫৫০ হিজরীতে জামাল উদ্দিন ইষ্ফাহানী তথাকার উলামায়ে কিরামের উপস্থিতিতে দেয়ালের চারিদিকে চন্দন কাঠের জালী তৈরী করে দিয়েছিলেন এবং ৫৫৭ হিজরীতে কয়েকজন ইসায়ী ধার্মিকের ছদ্মবেশে মদীনা শরীফে এসেছিলেন এবং সুড়ংগ খনন করে লাশ (দেহ) মুবারক বের করে নিতে চেয়েছিলেন। হুযুর আলাইহিস সালাম তৎকালীন বাদশাকে তিনবার স্বপ্ন দেখালেন। অত:পর বাদশাহতাদেরকে কতল করার নির্দেশ দিলেন এবং রওযা পাকের চারিদিকে পানির স্তর পর্যন্ত ভিত্তি খনন করে সীসা ঢেলে একে ভরাট করে দিয়েছিলেন। আবার ৬৭৮ হিজরীতে সুলতান কালাউন সালেহী সবুজ গম্বুজটা, যা এখনও মওজুদ আছে, তৈরী করিয়েছিলেন।

উপরোক্ত ভাষ্য থেকে এটা বুঝা গেল যে, পবিত্র রওযা মুবারক সাহাবায়ে কিরাম তৈরী করিয়েছিলেন। যদি কেউ বলে, এটাতো হুযুর আলাইহিস সালামের বিশেষত্ব, এর উত্তরে বলা যাবে, এ রওযা শরীফে হযরত সিদ্দীক (রা:) ও হযরত উমর (রা:) কেও দাফন করা হয়েছে এবং হযরত ঈসা (আ:) কেও দাফন করা হবে। সুতরাং এটা হযুর আলাইহিস সালামের বৈশিষ্ট বলা যায় না। বুখারী শরীফের প্রথম খন্ড কিতাবুল জানায়েয এবং মিশকাত শরীফের البكاء على الميت  শীর্ষক অধ্যায়ে বর্ণিত আছে, যখন হযরত ইমাম হাসান ইবনে আলী (রা:) ইন্তিকাল করেছিলেন- ضَرَبَتْ اِمْرَ أتُه الْقُبَّةَ عَلى قَبْرِه سَنَة  তখন তাঁর স্ত্রী তাঁর কবরের উপর এক বছর পর্যন্ত গম্বুজ বিশিষ্ট ঘর তৈরী করে রেখেছেলেন।

এটাও সাহাবায়ে কিরামের যুগে সবার বর্তমানে হয়েছিল। কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করেন নি। অধিকন্তু তাঁর স্ত্রী ওখানে একবছর পর্যন্ত অবস্থান করেছিলেন, অত:পর ঘরে ফিরে আসেন। এ হাদীছ থেকে বুযুর্গানে কিরামের মাযার সমূহের কাছে খাদিমের অবস্থান করাটাও প্রমাণিত হলো। এ পর্যন্ত কুরআন হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত করা হলো। এবার ফকীহ, মুহাদ্দীছ, তাফসীরকারীগণের উক্তি সমূহ প্রত্যক্ষ করুন।

রূহুল বয়ানের তৃতীয় খন্ডে দশম পারায় اِنَّمَا يَعْمُرَ مَسَجِدَ اللهِ مَنْ اَمَنَ بِاللهِ  এ আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন।

উলামা, আওলিয়া ও বুযুর্গানে কিরামের কবরের উপর ইমারত তৈরী করা জায়েয যদি মানুষের মনে শ্রেষ্ঠতম ধারণা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে; যাতে লোকেরা ঐ কবরবাসীকে নগণ্য মনে না করে।

মিরকাত শরহে মিশকাতের কিতাবুল জানায়েযে دفن الميت  অধ্যায়ে বর্ণিত আছে-

পূর্বসূরী আলেমগণ, মাশায়িখ ও উলামায়ে কিরামের কবর সমূহের উপর ইমারত তৈরী করা জায়েয বলেছেন, যাতে লোকেরা যিয়ারত করে এবং বসে আরাম পায়।

শেখ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলভী শরহে সফরুস সা’আদাত কিতাবে উল্লেখ করেছেন-

শেষ জামানায় সাধারণ মানুষ যখন বাহ্যিক বেশভূষার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গেল, তখন মাশায়িখ ও বুযুর্গানে কিরামের কবর সমূহের উপর ইমারত তৈরী করার প্রতি বিশেষ অভিপ্রায়ে জোর দেয়া হয়, যেন মুসলমান ও আওলিয়া কিরামের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ পায়। বিশেষ করে হিন্দুস্থানে, যেথায় হিন্দু, কাফির ও অনেক শত্রুর অবস্থান, তথায় পুণ্যাত্মা মনীষীদের শান-মান প্রকাশ, সেসব কাফিরদের মনে ভীতি ও আনুগত্য সৃষ্টির সহায়ক। অনেক কাজ আগের যুগে মাকরূহ ছিল কিন্তু শেষ জামানায় মুস্তাহাবে রূপান্তরিত হয়েছে।

ফতওয়ায়ে শামীর প্রথম খন্ড الدفن  অধ্যায়ে লিখা আছে-

وَقِيْلَ لَايَكْرَهُ الْبِنَاءُ اِذَا كَانَ الْمَيِّتَ مِنَ الْمَشَائِخِ والعُلَمَاءِ وَالسَّادَاتِ

 

যদি কবরবাসী মাশায়িখ, উলামা বা সৈয়দ বংশ থেকে কেউ হয়ে থাকেন, তার কবরের উপর ইমারত তৈরী করা মাকরূহ নয়। সেই এক অধ্যায়ে দুর্রুল মুখতারে উল্লেখিত আছে-

لَايَرْ فَعُ عَلَيْهِ بِنَاء وَقِيْلَ لَابَأسَ بِه وَهُوَ الْمُخْتَارُ

 

(কবরের উপর ইমারত তৈরী করা অনুচিত। কেউ কেউ বলেছেন, এতে কোন ক্ষতি নেই। এবং এ অভিমতটাই পছন্দনীয়।) কতেক লোক বলেন যে, শামী ও দুর্রুল মুখতারে ইমারতের বৈধতার কথাটা যেহেতু শব্দ   فِيْلَ দ্বারা ব্যক্ত করেছেন, সেহেতু এ অভিমতটা দুর্বল। কিন্তু এটা ভুল ধারণা। ফিকাহ শাস্ত্রে    فِيْلَ শব্দ ব্যবহারটা দুর্বলতার লক্ষণ নয়, বরং কোন কোন স্থানে একটি মাসআলার জন্য দু’টি মতামত ব্যক্ত করা হলে উভয় মতামতই  فِيْلَ  শব্দ দ্বারা অর্থাৎ পরোক্ষভাবে প্রকাশ করা যায়। তবে হ্যাঁ, যুক্তি বিদ্যায়  فِيْلَ শব্দটা দুর্বলতার নিদর্শন। কবরে আযান শীর্ষক আলোচনায় فِيْلَ শব্দের বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে। তাহতাবী আলা মরাকিল ফলাহ গ্রন্থে ৩৩৫ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে-

মিসরের লোকেরা কবর সমূহের উপর পাথর স্থাপন করে, যাতে বিলীন বা উচ্ছেদ হয়ে না যায় এবং কবরকে যেন পলেস্তারা করতে না পারে আর যেন কবরের উপর ইমারত তৈরী করতে না পারে। কেউ কেউ এগুলোকে জায়েয বলেন এবং এটাই গ্রহনযোগ্য ।

‘মীযানুল কুবরা’ গ্রন্থের প্রথম খন্ডের শেষ কিতাবুল জানায়েযে ইমাম শারানী (রহ:) বলেন-

অন্যান্য ইমামগণের মতামত হচ্ছে, কবরের উপর ইমারত তৈরী করা এবং একে চুন দিয়ে আলপনা করা যাবে না। তা সত্বেও ইমাম আবু হানীফার বক্তব্য হচ্ছে এসব জায়েয। সুতরাং প্রথম উক্তিতে কঠোরতা এবং দ্বিতীয় উক্তিতে নমনীয়তা প্রকাশ পায়।

এখনতো আর কিছু বলার নেই। স্বয়ং মযহাবের ইমাম হযরত আবু হানীফার অভিমত পাওয়া গেল যে, কবরের উপর গম্বুজবিশিষ্ট ইমারত ইত্যাদি তৈরী করা জায়েয।

আল্লাহর শুকর, কুরআন হাদীছ ও ফিকাহের বিভিন্ন ইবারত এমনকি স্বয়ং ইমাম আবু হানীফার উক্তি থেকে প্রমানিত হলো যে, আওলিয়া ও উলামায়ে কিরামের কবরের উপর গম্বুজ ইত্যাদি তৈরী করা জায়েয। বিবেকও বলে যে এটা জায়েয।-কারণ

প্রথমত: এটা লক্ষ্য করা গেছে যে, সাধারণ কাঁচা কবরের প্রতি জনগণের মনে তেমন কোন আদব বা সম্মানবোধক থাকে না, তাতে  না ফাতিহা পাঠ করা হয়, না শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয় বরং জনগণ একে পদদলিত করে। কিন্তু যদি পাকা কবর সামনে পড়ে এবং এর উপর গিলাফ ইত্যাদি চড়ানো দেখে, মনে করে যে এটা কোন বুযুর্গের মাযার হবে। তখন সসম্মানে একে অতিক্রম করে এবং আপনা থেকে মুখে ফাতিহা পাঠ এসে যায়। মিশকাতশরীফের الدفن  অধ্যায়ে এবং মিরকাতে উল্লেখিত আছে জীবীত কালে এবং ইন্তিকালের পর একই রকম সম্মান করা উচিৎ। অনুরূপ ফতওয়ায়ে আলমগীরীর কিতাবুল কারাহিয়াত এবং আশআতুল লুমআত গ্রন্থে الدفن  অধ্যায়ে বর্ণিত আছে যে, মা-বাপের কবরকে চুমা দেয়া জায়েয। ফকীহগণ আরও বলেন যে, কবর থেকে এতটুকু দূরত্বে বসবেন, যে পরিমাণ দূরত্বে কবরস্থ ব্যক্তির সামনে জীবীত অবস্থায় বসতেন। এর থেকে বোঝা গেল ইন্তিকাল হওয়া  ব্যক্তি তার জীবীত থাকাকালিন সম্মানের সমঅধিকার। ইহজগতে আল্লাহর অলীগণ বাধ্যতামূলক সম্মানের অধিকারী ছিলেন। সুতরাং ইন্তিকালের পরও তাঁরা সম্মানের অধিকারী। কবরের উপর ইমারত তৈরী করা হচ্ছে সেই সম্মান প্রকাশের মাধ্যম বিশেষ। তাই তাকে কমপক্ষে মুস্তাহাব ধরে নেয়া যায়।

দ্বিতীয়ত: সমস্ত ইমারত সমূহের মধ্যে সরকারী ভবন বা মসজিদসমূহ হচ্ছে বিশেষ খ্যাত। যাতে লোকেরা অনায়াসে সেগুলোকে খুঁজে বের করে উপকৃত হতে পারে। উলামায়ে কিরামের বেশভুষা ও পোষাক-পরিচ্ছদ জ্ঞানী সুলভ হওয়া চাই। যেন লোকেরা তাদেরকে সনাক্ত করে মাসআলা জিজ্ঞাসা করতে পারে। অনুরূপ মাশায়িখ ও উলামায়ে কিরামের কবর সমূহ অন্যান্যদের কবর থেকে উন্নততর হওয়া চাই, যেন লোকেরা সনাক্ত করে ফয়েজ হাসিল করতে পারেন।

তৃতীয়ত: আল্লাহর ওলীগণের মাযার আল্লাহর নিদর্শন স্বরূপ, যেমন আমি ইতিপুর্বে তফসীরে রূহুল বায়ানের বরাত দিয়ে বর্ণনা করেছি যে, আল্লাহর নিদর্শন সমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন প্রয়োজন, যা কুরআন দ্বারা প্রমানিত। সুতরাং কবরসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন উচিৎ । সম্মান প্রদর্শন স্থান ও কাল ভেদে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। যে কোন প্রকারের সম্মান প্রদর্শন, যদি তা ইসলাম বিরোধী না হয়, জায়েয। হুযুর আলাইহিস সালামের পবিত্র যুগে হাড় ও চামড়ার উপর কুরআন লিখা হতো, মসজিদে নববী ছিল কাঁচা এবং এর ছাউনি ছিল খেজুর পাতার, যেখানে বৃষ্টির সময় পানি টপকিয়ে পড়তো। কিন্তু পরবর্তী যুগে মসজিদে নববীকে খুবই শানদার করে এবং রওযা পাককে একান্ত যত্ন সহকারে তৈরী করা হয়েছে, কুরআন শরীফকে উন্নতমানের কাগজ দ্বারা ছাপানো হয়েছে।

দুর্রুল মুখতারে কিতাবুল কারাহিয়ায় البيع  শীর্ষক পরিচ্ছেদে উল্লেখ আছে-

وَجَازَ تَحْلِيَة الْمُصْحَفِ لِمَا فِيْهِ مِنْ تَعْظِيْمِه كَمَافِى نَقْشِ الْمَسْجِدِ

 

এ প্রসংগে শাশীতে اى بالذهب والفضة   দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ কুরআন কারীমকে সোনা-চান্দি দ্বারা অলংকৃত করা জায়েয। কেননা এতে এর প্রতি সম্মান প্রকাশ পায়, যেমন মসজিদে কারুকার্য করা হয়। সাহাবায়ে কিরামের যুগে নির্দেশ ছিল কুরআনকে আয়াত, রুকু এবং ইরাব (যের যবর, পেশ ইত্যাদি) থেকে মুক্ত রাখুন। কিন্তু পরবর্তী যুগে যখন প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, তখন এসব কাজ বৈধ বরং আবশ্যক হয়ে গেছে। সেই একই জায়গায় আরও বর্ণিত আছে-

وَمَارَوِى عَنْ اِبْنِ مَسْعُوْدٍ جرِّدُوْ الْقُرْ انَ كَانَ فِىْ زَمَنِهِمْ وَكَمْ مِنْشَيْئ يختَلِفُ بِاِخْتِلَافِ الزَّمَانِ وَالْمَكَانِ

 

ইবনে মসউদ (রা:) থেকে বর্ণিত আছে কুরআনকে ইরাব ইত্যাদি থেকে মুক্ত রাখুন। এ আদেশটা তৎকালীন যুগের জন্য প্রযোজ্য ছিল কিন্তু অনেক বিষয় কাল ও স্থানের পরিবর্তনের ফলে পাল্টে যায়। একই জায়গায় শামীতে আরও উল্লেখিত আছে কুরআনকে ছোট করে ছাপাবেন না অর্থাৎ ছোট আকারের করবেন না বরং এর কলম মোটা, হরফ বড় এবং আয়াত চিহ্ন স্পষ্ট হওয়া চাই। এসব নির্দেশ কেন? একমাত্র কুরআনের মর্যাদার জন্যই এসব নির্দেশাবলী। অনুরূপ প্রথম যুগে কুরআন তিলাওয়াত, আযান ও ইমামতির জন্য পারিশ্রমিক নেওয়া হারাম ছিল, যা হাদীছ ও ফিকাহ গ্রন্থে বিদ্যমান আছে। কিন্তু পরবর্তীতে প্রয়োজন বোধে জায়েয করা হয়েছে। হুযুর আলাইহিস সালামের যুগে জীবিতদের জন্য ঘর তৈরী নিষেধ ছিল। জনৈক সাহাবী একটি পাকা ঘর তৈরী করেছিলেন। এতে হুযুর আলাইহিস সালাম নাখোশ হয়েছিলেন এমনকি তাঁর সালমের জওয়াবও দেননি। ওই ঘরটি ভেংগে ফেলার পরই সালামের জবাব দিয়েছেন। (মিশকাত শরীফের كتاب الرقاق এর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে দেখুন) একই পরিচ্ছেদে অন্যত্র বর্ণিত আছে যে, হুযুর আলাইহিস সালাম ইরশাদ ফরমান-

اِذَالَمْ يَبَارَكْ لِلْعَبْدِ فِىْ مَالِه جعَلَهُ فِى الْمَاءِوَ الطِّيْنِ

 

সম্পদে না বরকত হয়, যদি তা ইটের কাজে ব্যয় করে। কিন্তু এসব নির্দেশ থাকা সত্বেও মুসলমানগণ পরবর্তী যুগে পাকা ঘর তৈরী করেছেন এবং মসজিদও পাকা করেছেন। আশ্চর্যের বিষয়! যারা আল্লাহর ওলীদের কবর সমূহ পাকা করা বা ওগুলোর উপর গম্বুজবিশিষ্ট ঘর তৈরী করাকে হারাম বলে, তারা নিজেদের ঘর সমূহকে কেন আলিশান পাকা করে? اَتُوْمِنُوْنَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُوْنِ  بِبَعْضٍ তারা কি কতেক হাদীছকে বিশ্বাস করে আর কতেক হাদীছকে অস্বীকার করে? আল্লাহ তাদেরকে বোধ শক্তি দান করুন।

চতুর্থত: আল্লাহর ওলীগণের কবর সমূহ পাকা হওয়া এবং সেগুলোর উপর ইমারত স্থাপিত  হওয়া ইসলাম প্রচারের সহায়ক। আজমীর শরীফ ও অন্যান্য মাযারে দেখা গেছে যে, তথায় মুসলমানদের থেকে বেশী ও কাফিরগণ যাতায়াত করে। আমি এমন অনেক হিন্দু ও রাফেজীকে দেখেছি, যারা খাজা সাহেবের দরবারের শান-শওকত দেখে মুসলমান হয়েছেন।

বর্তমান হিন্দুস্থানে কাফিরগণ মুসলমানদের ওই ওয়াকফকৃত জায়গাগুলো দখল করে নিচ্ছে, যেগুলোতে কোন নিদর্শন নেই । এভাবে অনেক মসজিদ, খানকা কবরস্থান নিদর্শন বিহীন হওয়ার কারণে ওদের দখলে চলে গেছ। কবরস্থানের সমস্ত কবর কাঁচা হলে, এগুলো কিছু দিন পর ভেঙ্গে চুরে সমান হয়ে যায়, এসুযোগে কাফিরগণ দখল করে নেয়। সুতরাং এখন প্রত্যেক কবরস্থানের কিছু কিছু কবর পাকা হওয়া একান্ত প্রয়োজন, যাতে কবরস্থানের চিহ্ন এবং এর সীমানা জানা থাকে।

আমি নিজ গ্রামে স্বয়ং দেখেছি যে, দুটি কবস্থান ভরাট হয়ে গিয়েছিল। একটিতে শুধু দু’ তিনটি কবর ছাড়া বাকী সবই কাঁচা কবর ছিল, অপরটির কিছু অংশে পাকা কবর ছিল, গরীব মুসলমানেরা গোপনে এ কবরস্থান দুটি বিক্রি করে দিয়েছিল, যার জন্য মুকাদ্দমা হয়েছিল  প্রথম কবরস্থানটির পাকা কবরগুলো বাদ দিয়ে বাখী অংশ মুসলমানদের হাত ছাড়া হয়ে গিয়েছিল। কেননা ওটাকে হাকিম নাল জমিন হিসেবে সাব্যস্ত করেছিলে। দ্বিতীয় কবরস্থানের অর্ধেকাংশ অর্থাৎ যে পর্যন্ত পাকা কবর ছিল, মুসলমানেরা পেয়েছিল, বাকী অংশের যেথায় কাঁচা কবর ছিল এবং সমতল হয়ে গিয়েছিল, কাফিরদের হাতে চলে যায়। কেননা সেই কবরস্থানের সীমানা পাকা কবরের চিহ্ন দ্বারা নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং বাকী অংশের বিক্রয় সঠিক রায় দেয়া হয়েছিল। এর থেকে আমি বুঝতে পারলাম যে হিন্দুস্থানে কিছু কবর পাকা করা বিশেষ দরকার। কেননা, এটা ওয়াকফ বলবৎ রাখার মাধ্যম বিশেষ, যেমন মসজিদের জন্য মিনার।

১৯৬০ সালের জুলাই মাসে সংবাদপত্র সমূহে এ খবরটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছিল যে, মৌলভী ইসমাঈল সাহেবের পীর সৈয়দ আহমদ সাহেব বেরলভীর কবর, যা বালাকোটে অবহেলীত অবস্থায় আছে, মেরামত করা হবে এবং এর উপর গম্বুজ হতে যাচ্ছে। ১৯৬০ সালে জুলাই মাসের ২৯ তারিখ পকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আয়ুব খান কায়েদে আযমের কবরের উপর ইমারত তৈরীর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এ ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রায় এক লাখ মুসলমান অংশ গ্রহণ করেছিল এবং এ ইমারতের জন্য পঁচাত্তর লাখ টাকা বাজেট করা হয়েছিল। উক্ত অনুষ্ঠানে দেওবন্দীদের নেতা মৌলভী ইহতেশামুল হক থানবীও বক্তব্য রেখেছিলেন। তার বক্তব্য রাওয়াল পিন্ডির দৈনিক জংগ পত্রিকায় ১৯৬০ সালের ১২ ই আগষ্ট প্রকাশিত হয়েছিল। তাঁর বক্তব্যে তিনি আনন্দ প্রকাশ করে বলেছিলেন- অশেষ ধন্যবাদ, আজ বিপ্লবের নায়ক পাকিস্তানের জনকের কবরের উপর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন। পাকিস্তানের বিগত সরকারগুলো এ পবিত্র কাজে অনেক অবহেলা করেছেন। মুসলমানগণ, এরাই সেই দেওবন্দী, যারা এখনও মুসলমানদের কবর সমূহ ভেংগে ফেলার পক্ষপাতি এবং যারা নযদী সরকারকে সাহাবায়ে কিরামের কবর সমূহ ভেংগে ফেলার কারণে তার যোগে মুবারকবাদ জানিয়েছিল। অথচ আজ তারা কায়েদে আজমের কবরের উপর গম্বুজ ইত্যাদি তৈরী করায় আনন্দ অভিনন্দন জানাচ্ছে। তাদের কিতাবী মাযহাব এক ধরণের আর মৌখিক আমলী মাযহাব অন্য ধরণের। তাদের কথা হলো যেদিকে বাতাস সেদিকে চলো। যা হোক দেওবন্দীরাও মাযারের উপর গম্বুজ তৈরী করার সমর্থক হলো। -সূত্রঃ জা’আল হক ২য় খন্ড-