কাচাঁ ডালে কবরের আযাব কম হয়

মিশকাত শরীফের اداب الخلاء অধ্যায়ের প্রথম পরিচ্ছেদে রয়েছে, যেখানে বর্ণিত আছে- একবার হুযুর আলাইহিস সলাম দু’কবরের পাশ দিয়ে যাবার সময় ইরশাদ ফরমান কবরবাসির আযাব হচ্ছে। এদের মধ্যে একজন প্রস্রাবের ছিটা থেকে সতর্ক থকতো না এবং অপরজন পরনিন্দা করতো।

অত:পর তিনি (দ:) একটি কাঁচা ডাল নিয়ে তা দু’ভাগ করে দু’কবরে গেড়ে দিলেন। সাহাবাগণ আরয করলেন-ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনি এরকম কেন করলেন? তখন তিনি বললেন: যতক্ষণ পর্যন্ত এ ডাল না শুকাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ওদের আযাব কম হবে। এ হাদীছের ব্যাখ্যা প্রসংগে ইমাম নববী (রহ:) বলেন।

যতক্ষণ পর্যন্ত ডাল কাঁচা থাকবে ততক্ষণ তসবীহ পাঠ করবে। এ জন্য আযাব কম হবে।

শীত মৌসূম মোমেনদের জন্যে গনমিত

হযরত রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু তা‌‌আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেছেন :

اَلشِّتَأُ غَنِيْمَةُ الْمُؤْمِن طاَلَ لَيْلُه‘ فَقَا مُه‘ وَقَصَرَ نَهَا رُه‘ فَصَا مُه

“শীতকাল মোমেনের জন্যে গণমিত, (কেননা) এটার রাত লম্বা হয়, তাই সে তাতে এবাদত করে। আর দিন ছোট হয়, তাতে সে রোজা রাখে।। (কারণ শীতের রাতে এবাদত করা এবং দিনে রোজা রাখা সহজতর)।

অনুরূপ তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু তা‌‌আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেছেন :

اَللَّيْلُ طَوِيْلٌ فَلاَ تَقْصُرْهُ بِمَنَا مِكَ وَالنَّهَا رُمُضِيْئُ فَلاَتَكَدَّرَه‘ بِاَثَامكَ

অর্থাৎ “রাত লম্বা, এটাকে তোমার নিদ্রায় ছোট কর না, আর দিন উজ্জল এটাকে তোমার গুণাহ দ্বারা মলিন করো না”।

আল্লাহ্ তা’আলা তোমাকে যা কিছু দিয়েছেন, তাতে তুষ্ট ও সন্তষ্ট থাকবে। যদি তুষ্ট ও সন্তষ্টী হাসিল হয়ে যায়, তাহলে এটাকে গণীমত জানবে, আর আল্লাহ্ তা’আলার শুকরীয়া আদায় করবে অন্যদের কাছে যে সম্পদ আছে, তৎপ্রতি লোভ করবেনা।

জীবুদ্দশায় সব ধরনের আমল করা যায়, কিন্তু মৃত্যুর পর মানুষ কোন কিছুই করতে পারে না। তাই যেন্দেগীকে গনীমত মনে করে, যা কিছু করার করে নাও।

রাসুল (দঃ) “দেবো না” কখনো বলেননি

হযরত জাবের রাজিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বর্ণনা করেন যে, হুজুর আকরাম (সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কখনোই এমনটি হয়নি যে, কিছু চাওয়া হয়েছে আর তিনি বলেছেন “দেবো না”। বরং যদি সম্ভব হতো দিয়ে দিতেন নতুবা সে সময় অবকাশ চেয়ে অন্য সময়ের জন্যে ওয়াদা করে নিতেন। (বুখারী, পৃঃ ৮৯২, মুসলিম পৃঃ ২৫৩ ২য় খন্ড)