নামাযে আমীন নিচু স্বরে বলা উচিত

হানাফী মতে প্রত্যেক নামাযী চাই ইমাম হোক বা মুকতাদী  হোক অথবা একাকী হোক, আর প্রকাশ্য নামায হোক কিংবা গোপন হোক, আমীন আস্তে বলবে। কিন্তু মাযহাব অস্বীকারকারী ওয়াহাবীদের মতে প্রকাশ্য নামাযে (ফজর, মাগরীব, এশা, জুমা ইত্যাদি) ইমাম ও মুকতাদী উচ্চস্বরে চিৎকার করে আমীন বলবে। নিম্নে ইহার দলীলসহ আলোচনা করা হলঃ-

আস্তে আমীন বলা আল্লাহ তা’আলা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হুকুম সম্মত। চিৎকার করে আমীন বলা কুরআনে করীমেরও পরিপন্থী। আর হাদীস ও সুন্নাতেরও বীরোধী। দলীলগুলো নিম্নরূপঃ 
রব তা’আলা বলেন-
اُدْعُوْا رَبَّكُمْ تَضَرُّ عًا وَّخفْيَةً অথাৎ স্বীয় প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো বিনয়ের সাথে এবং নীচস্বরে বলা উচিত।
আমীন ও দোয়া। তাই এটাও নীচ বলা উচিত। রব তায়ালা বলেন-

وَاِذَا سَألَكَ عِبَادِى عَنِّىْ فَاِنِّىْ قَرِيْبٌ اُجِيْبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ اِذَا دَعَانِ

অর্থাৎ হে মাহবুব! যখন আপনার কাছে আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে জানতে চায়, তখন আমি অত্যন্ত কাছেই। আমি আহবানকারীর আহবানে সাড়া দেই যখন সে আমার কাছে প্রার্থনা করে।
বুঝা গেল চিৎকার করে তার কাছেই প্রর্থনা করতে হয় যিনি আমাদের কাছ থেকে দূরে। রব তায়ালা তো আমাদের শাহরগের চেয়েও অতি নিকটে। তাই আমীন চিৎকার দিয়ে বলা নিরর্থক। বরং কুরআনী শিক্ষার পরিপন্থী। এ জন্য যে আমীন হলো দোয়া বিশেষ।
হাদীস নং১-৮ ইমাম বোখারী, মুসলিম আহমদ, মালিক, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, প্রমুখ হযরত আবু হোরায়রা (রাদিঃ) হতে বর্ণনা করেন-
রাসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- যখন ইমাম `আমীন’ বলবে তখন তোমরাও `আমীন’ বলবে। কেননা যার `আমীন’ বলা ফিরিশতাদের আমীন এর সাথে মিলে যাবে তার অতীতের পাপ ক্ষমা করা হবে।
এ হাদিছ দ্বারা বুঝা গেল পাপ মার্জনা ঐ নামাযীর জন্যে যার ‘আমীন’ ফিরিশতাদের আমীনের মত হয়। আর স্পষ্ট ব্যাপার হলো যে, ফিরিশতারা নীচু স্বরে আমীন বলে। আমরা তাদের আমীন আজ পর্যন্ত শুনিনি। তাহলে উচিত হলো যে আমাদের `আমীনও’ আস্তে হওয়া যাতে ফিরিশতাদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং গুনাহগুলো মাফ হয়। যে লা-মাযহাবীরা চিৎকার দিয়ে আমীন বলে তারা যেভাবে মসজিদে আসে তেমনিভাবেই মসজিদ থেকে চলে যায়। তাদের গুনাহগুলো মাফ হয় না। কেননা তারা ফিরিশতাদের আমীন এর বিরোধীতা করেছে।
হাদিছ নং ৯-১০: ইমাম বোখারী, শাফেয়ী, মালিক, আবু দাউদ, নাসায়ী প্রমুখ হযরত আবু হোরায়রা )রাদিঃ( থেকে বর্ণনা করেন-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম  ইরশাদ করেন- যখন ইমাম ‘আমীন’ বলবে غَيْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّيْنَ তখন তোমরাও বলো ‘আমীন’। কেননা যার ‘আমীন’ বলা ফিরিশতাদের ‘আমীন’ এর সাথে মিলে যাবে তার আগেকার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করা হবে।
এ হাদীস দ্বারা দুটো মাসআলা জানা গেলো। এক মুকতাদী ইমামের পিছে কখনো সূরা ফাতিহা পড়বেনা। আর যদি মুকতাদী পড়তো তাহলে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলতেন, যখন তোমরা  وَلَا الضَّالِّيْنَ বলবে তখন ‘আমীন’ বলবে। বুঝা গেলো মুক্তাদি শুধুমাত্র আমীন বলবে। وَ لَا الضَّا لِّيْنَ বলা ইমামের কাজ। রব তাআলা বলেন।

اِذَا جَاءَ كُمُ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَاتٍ فَامْتَحِنُوْهُنَّ

অর্থাৎ, ‘যখন তোমাদের কাছে মু’মিনা নারী দেশত্যাগ করে আসবে তখন তোমরা তাদের পরীক্ষা নাও।
দেখো! পরীক্ষা নেয়া শুধুমাত্র মু’মিনদের কাজ; মু’মিনা নারীদের কাজ নয়। কোন হাদীসের মধ্যে আসে নি যে,
اِذَا قُلْتُمْ وَلَا الضَّالِّيْنَ فَقُوْلُوْا أمِيْنَ অর্থাৎ, ‘যখন তোমারা وَلَا الضَّالِّيْنَ   বলবে তখন اَمِيْنَ বলো। বুঝা গেল মুকতাদী وَلَا الضَّالِّيْنَ বলবেই না।
দ্বিতীয়ত: এই যে, ‘আমীন’ আস্তে হওয়া উচিত। কেননা ফিরিশতাদের আমীন নীচু স্বরেই হয়। যা আজ পর্যন্ত আমরা শুনতে পায়নি। স্মর্তব্য যে, এখানে ফিরিশতাদের আমীন এর সামঞ্জস্যতা বলতে সময়ের সাথে সামঞ্জস্যতা নয়  বরং আদায় করার পদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্যতা বুঝানো হয়েছে। ফিরিশতাদের আমীন এর সময়ওতো ওটাই যে যখন ইমাম সূরা ফাতিহার তিলাওয়াত শেষ করে। কেননা আমাদের পাহারাদার ফিরিশতারা আমাদের সাথেই নামাযে অংশগ্রহণ করে এবং ঐ সময় আমীন বলে।
হাদীস নং-১৪-১৮: ইমাম আহমদ, আবূ দাউদ, ত্বায়ালুসী, আবুইয়ালা, মুছিলী, তাবরানী,  দারু কুত্বনী এবং হাকিম স্বীয় মুসতাদরাকে হযরত ওয়াইল ইবনে হাজর থেকে বর্ণনা করেন হাকিম বলেন যে, এ হাদীস এর ইসনাদ পুরোটাই সহীহ:
হযরত ওয়াইল ইবনে হাজর থেকে বর্ণিত- তিনি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম এর সাথে নামায পড়েছেন। যখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম غَيْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّلِّيْنَ পর্যন্ত পৌছলেন তখন তিনি বললেন, ‘আমীন’ আর ‘আমীন’ এ আওয়াজ ছোট রাখলেন।
বুঝা গেল যে আমীন নীচু স্বরে বলা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম এর সুন্নাত। উচু আওয়াজে বলা সুন্নাতের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
হাদীস নং-১৯-২১: আবূ দাউদ, তিরমিযী,  ইবনু আবি শায়বা প্রমুখ হযরত ওয়াইল ইবনে হাজর থেকে বর্ণনা করেছেন:

قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَرَأَ غَيْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّيْنَ فَقَالَ اَمِيْنَ وَخَفَضَ بِهِ صَوْتَهُ

তিনি বলেন আমি শুনেছি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম পড়েছেন-غَيْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّيْنَ এর পর বললেন أمِيْنَ এবং তাতে আওয়াজ ছোট রাখলেন।
হাদীস নং২২-২৩: তাবরানী ‘তাহযীবুল আছার’ এ এবং তাহাবী হযরত ওয়াইল বিন হাজর থেকে বর্ণনা করেন:
তিনি বলেন হযরত ওমর ও আলী (রাদ্বিআল্লাহু আনহুমা) না বিসমিল্লাহ উচ্চ স্বরে পড়তেন, না আমীন ।
বুঝা গেল নীচুস্বরে বিসমিল্লাহ পড়াজ সাহাবায়ে কেরামেরও সুন্নাত।
হাদীস নং-২৪: হেদায়ার ব্যাখ্যাকার আইনী হযরত আবূ মা মার (রাদ্বি) থেকে বর্ণনা করেছেন:

عَنْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللهُ عَنْهَ قَالَ يُخْفِى الْاِمَامُ اَرْبَعًا اَلتَّعُوْذُ وَبِسْمِ اللهِ وَاَمِيْنَ وَرَبَّنَالَكَ الْحَمْدُ

হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন ইমাম চারটি বিষয় নীচু স্বরে বলবেঃ আউযুবিল্লাহ বিসমিল্লাহ আমীন এবং রাব্বানা লাকাল হামদ।
হাদীস নং২৫: বায়হাক্বী হযরত আবূ ওয়াইল থেকে বর্ণনা করেন: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদ্বি) বলেন:

عَنْ عَبْدُ اللهِ قَالَ يُخْفِى الْاِمَامُ اَرْبَعًا بِسْمِ اللهِ وَ اللهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ وَالتَّعُوْذُ والتَّشَهُّدُ

ইমাম চারটি বিষয় নীচু স্বরে পড়বে বিসমিল্লাহ রাব্বানা লাকাল হামদ আউযু এবং আততাহিয়্যাত।
হাদীস নং-২৬: হযরত ইমাম আবূ হানীফা (রাদ্বী.) হযরত হাম্মাদ থেকে উনারা হযরত ইবরাহীম নাখয়ী (রাদ্বি.) থেকে বর্ণনা করেন:

قَالَ اَرْبَعٌ يُخْفِيْهِنَّ الْاِمَامُ اَلتَّعُوْذُ وَبِسْمِ اللهِ وَسُبْحَانَكَ اَللَّهُمَّ وَ أمِيْنَ رَوَه مُحَمَّدُ فِى الْاَثَارِ وَعَبْدُ الرَّزَّاقُ فِى مُصَنِّفِهِ

অর্থাৎ তিনি বলেন ইমাম চারটি বিষয় নীচূ স্বরে পড়বে আউযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ, সুবহানাকা আল্লাহুম্মা এবং আমীন। এ হাদীস ইমাম মুহাম্মদ ‘আছার’ এ এবং আবদুর রাযযাক তার মুসান্নাফ এ বর্ণনা করেন।
বিবেকও চায় যে আমীন আস্তে বলা হোক। কেননা আমীন কুরআনে কারীমের আয়াত কিংবা কুরআনের শব্দ নয়। এ জন্যই তা না জিবরীল  আমীন নিয়ে  এসেছেন না কুরআনে কারীমে লেখা হয়েছে। বরং তা দু’আ এবং আল্লাহর যিকর।
সুতরাং যেমনিভাবে ‘ছানা’ ‘আততাহিয়্যাত’ ‘দরূদে ইবরাহীমি’ ‘দোআ’য়ে মাছুরাহ’ ইত্যাদি নীচু স্বরে পড়া হয় ঠিক তেমনিই ‘আমীনও’ নীচু স্বরে হওয়া উচিত।
এটা কেমন যে, সমস্ত যিকর নীচু স্বরে হয় আর আমীন এর ক্ষেত্রে সবাই চিৎকার দেয়। এ চিৎকার করাটা কোরআনেরও পরিপন্থী। সহীহ হাদীসসমূহ সাহাবায়ে কেরাম এবং সুস্থ জ্ঞানেরও বিরোধী। আল্লাহ তাআলা আমল করার তাওফীক দান করুন।
দ্বিতীয়ত, এজন্য  যে যদি মুকতাদীর উপর সুরা ফাতিহাও পাড়া ফরয হয় এবং আমীন বলারও হুকুম হয় তাহলে যদি মুকাতাদী সূরা ফাতিহার মাঝখানে হয় আর ইমাম وَلَا الضَّالِّيْنَ পড়ে ফেলে তখন মুকতাদী যদি আমীন না বলে তাহলে সুন্নাতের পরিপন্থী হবে। আর যদি আমীন বলে এবং চিৎকার দিয়ে বলে তাহলে আমীন মাঝখানে হয়ে যাবে। কুরআনের মাঝখানে গায়রে কুরআন এসে যাবে এবং সূরা ফাতিহার মাঝখানে শোরগোল হবে। -সুত্রঃ জা’আল হক ৩য় খন্ড-

নামাযে বিসমিল্লাহ নীচু স্বরে পড়া

সুন্নাত হলো নামাযী সূরা ফাতিহার পূর্বে নীচু স্বরে বিসমিল্লাহ পড়ে আল হামদু লিল্লাহে থেকে ক্বিরআত শুরু করবে। কিন্তু মাযহাব অমান্যকারী ওয়াহাবী সম্প্রদায় ‘বিসমিল্লাহও’ উচুস্বরে পড়ে যা সুন্নাতের পরিপন্থী। বিসমিল্লাহ আস্তে পড়ার ব্যাপারে প্রচুর হাদীস শরীফ বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে এখানে কিছু উল্লেখ করা হচ্ছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কবূল করুন।

হাদীস নং-১-৩: ইমাম মুসলিম বোখারী ও আহমদ (রাহিমাহুমুল্লাহ) হযরত আনাস (রাদ্বিঃ) থেকে বর্ণনা করেন:

قَالَ صَلَيَّتَ خَلْفَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَخَلْفَ أَبِىْ بَكَرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ فَلَمْ اَسْمَعْ اَحْدًا مِنْهُمْ يَقْرَءُ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ

আমি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবূ বকর সিদ্দীক, ওমর ফারুক ও উসমান যুননূরাইন (রাদ্বিআল্লাহু আনহুম) এর পিছনে নামায পড়েছি। কিন্তু তাদের কাউকে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়তে শুনিনি।
হাদীস নং-৪: ইমাম মুসলিম (রহ:) হযরত আনাস (রাদ্বি) থেকে বর্ণনা করেনঃ

وَعَنْ اَنَسٍ أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاَبَابَكَرِ وَعُمَرَ كَانوْا يَفْتَتِحُوْنَ الصَّلَاةَ بِلْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ

নিশ্চয়ই নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হযরত আবূ বকর সিদ্দীক ও হযরত ওমর (রাদ্বিআল্লাহু আনহুমা) আল হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন পড়ে নামাযের কিরাত শুরু করতেন।
হাদীস নং-৫-৭: ইমাম নাসাঈ ইবনে হাব্বান তাহাবী প্রমুখ হযরত আনাস (রাদ্বি:) থেকে বর্ণনা করেন:-

قَالَ صَلَيَّتُ خَلْفَ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبِىْ بَكَرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَان فَلَمْ اَسْمَعُ اَحْدًا مِنْهُمْ يَجْهَرُ بِبِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ

অর্থাৎ আমি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবূ বকর সিদ্দীক, ওমর ফারুক ও ওসমান (রাদিআল্লাহু আনহুম) এর পিছনে নামায পড়েছি। তাদের কাউকে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম উচু আওয়াজে পড়তে শুনিনি।
হাদীস নং-৮-১১: তাবরানী মু’জামুল কবীরে আবূ নুআইম হুলিয়া’তে ইবনে খুযাইমাহ এবং তাহাবী হযরত আনাস(রাদ্বি.) থেকে বর্ণনা করেন:

أَنَّ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبَابَكَرٍ وَعُمَرُ كَانُوْا يُسِرُّوْنَ بِبِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ

অর্থাৎঃ নিশ্চিই নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবূ বকর, ওমর ফারুক (রাদ্বিআল্লাহু আনহুমা) ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ নীচু স্বরে পড়তেন।
হাদীস নং-১২-১৪: আবূ দাউদ দারিমী তাহাবী প্রমুখ হযরত আনাস (রাদ্বিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন:

أَنَّ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبَابَكَرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ كَانُوْا يَسْتَفْتِحوْنَ الْقِرَ اءةَ بِالْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ

অর্থাৎ নিশ্চয়ই নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বকর, ওমর ফারুক ও ওসমান (রাদিআল্লাহু আনহুম) ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’ থেকে ক্বিরাআত শুরু করতেন।
হাদীস নং- ১৫: ইমাম মুসলিম হযরত আনাস (রাদ্বি) থেকে বর্ণনা করে:
নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বকর, ওমর ও ওসমান (রাদআল্লাহু আনহুম) ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’ বলে ক্বিরাআত আরম্ভ করতেন। আর ক্বিরাআতের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ পড়তেন না, ক্বিরাআতের শেষেও পড়তেন না।”
হাদীস নং-১৬: ইবনে আবি শায়বাহ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদ্ব.) থেকে বর্ণনা করেন-

عَنْ اِبْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ كَانَ يُخْفِى بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّ حِيْمِ وَالْاِسْتِعَاذَةَ وَرَبَّنَالَكَ الْحَمْدَ

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদ্ব.) ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ আঊযুবিল্লা এবং ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ নীচুস্বরে পড়তেন।
হাদীস নং -১৭: ইমাম মুহাম্মদ কিতাবুল আছার এ হযরত ইবরাহীম নাখয়ী (রাদ্বি.) হতে বর্ণনা করেনঃ

قَالَ اَرْبَعٌ يُخْفِيْهِنَّ الاِمَامُ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ  وَسُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَالتَّعُوْذَ وَاَمِيْنَ

তিনি বলেন চার বিষয়ে ইমাম নীচু স্বরে পড়বেন- বিসমিল্লাহ, সুবহানাকা আল্লাহুম্মা, আঊযুবিল্লাহ ও আমীন।
হাদীস নং-১৮-১৯ ইমাম মুসলিম, আবূ দাউদ (রহ:) হযরত আয়িশা (রাদ্বি.) হতে বর্ণনা করেন:

قَالَتْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَفْتِم الصَّلَاة بِالتَّكْبِيْرِ وَالْقَرَاءَةَ بِالْحَمْدِ لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ

তিনি বলেন, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকবীরে তাহরীমা বলে নামায শুরু করতেন এবং ‘আল হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামী’ দিয়ে ক্বিরাআত আরম্ভ করতেন।
হাদীস নং-২০: আবদুর রাযযাক আবূ ফাখতাহ থেকে বর্ণনা করেনঃ-

اَنَّ عَلِيًّا كَنَ لَايَجْهَرُ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ وَكَانَ يَجْهَرُ  بِالحَمْدُ لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ

হযরত আলী মুরতোদ্বা (রাদ্বি.) বিসমিল্লাহ উচু স্বরে পড়তেন না আলহামদুলিল্লাহ উচু স্বরে পড়তেন।
এ প্রসঙ্গে আরো অনেক হাদীস শরীফ পেশ করা যেতে পারে, কিন্তু আমরা এখানে শুধুমাত্র বিশটা হাদীসকে যথেষ্ট মনে করছি। বিস্তারিত জানার ইচ্ছা হলে তাহাবী ও সহীহ বোখার শরীফ কিতাবদ্বয় অধ্যয়ন করা যেতে পারে।
বিবেকও চায় যে বিসমিল্লাহ উচু স্বরে পাঠ না করা। প্রত্যেক সূরার শুরুতে যে বিসমিল্লাহ লেখা আছে তা ঐ সূরাগুলোর অংশ তথা অন্তর্ভুক্ত নয়। শুধুমাত্র সূরাগুলোকে বিভক্ত করার জন্য লেখা হয়েছে এবং হাদীস শরীফেও বর্ণিত আছে, যে নেককাজ ‘বিসমিল্লাহ’ পড়ে শুরু করা হয়নি তা অপূর্ণ। যেমনি ভাবেনামাযী বরকতের জন্যই ক্বিরাআতের শুরুতে আঊযুবিল্লাহ পড়ে অথচ তা নীচু স্বরেই পড়ে। কেননা আঊযুবিল্লাহ কোন সূরার অংশ নয়।
একইভাবে বরকতের জন্যই বিসমিল্লাহ পড়া হয় এবং তা নীচু স্বরেই পড়া হয়। কেননা বিসমিল্লাহও প্রত্যেক সূরার অংশ নয়। তবে সূরা নামল শরীফে যে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ রয়েছে তা ঐ সূরারই অংশ আর ইমামও তা উঁচু স্বরেই পড়ে থাকেন। কেননা তা ঐ সূরার আয়াত। এ জন্য ইমাম শুধুমাত্র কোরআনুল করীমকে উঁচু স্বরে পড়বেন। কিন্তু যে বিসমিল্লাহ সূরার প্রথমে লেখা হয় তা সূরার অংশ নয় বিধায় নীচু স্বরে পড়াই বাঞ্চনীয়। -সুত্রঃ জা’আল হক ৩য় খন্ড-