পাঁচটি পাঁচটির আগে গনীমত

হযরত মায়মূন ইবনে মেহরান (রা:) থেকে বর্ণিত আছে যে, হযরত রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু তা‌‌আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম)– এরশাদ করেছেন: পাঁচটিকে পাঁচের আগে গনীমত জান।* বার্দ্ধক্যের আগে যৌবনকে।
* অসুস্থতার আগে সুস্থতাকে।
* ব্যস্ততার আগে অবসরকে।
* দৈন্যতার আগে প্রাচুর্য্যকে।
* মৃত্যুর আগে যিন্দেগীকে।

সুত্র: তাম্বীহুল গাফেলীন

পছন্দনীয় তিনটি জিনিস

হযরত আবুদ্দারদারহ (রাঃ) বলেন যে,

১) আমি দৈন্যতাকে পছন্দ করি যাতে, আল্লাহ্ পাকের জন্যে বিনয়ী হতে থাকি

২) অসুস্থতাকে পছন্দ করি যাতে এর মাধ্যমে আমার গুনাহ মাফ হতে থাকে।

৩) মৃত্যুকে পছন্দ করি , যাতে পরওয়ার দেগারের সাথে সাক্ষাত হয়ে যায়।

সুত্র: তাম্বীহুল গাফেলীন

সবার চেয়ে উত্তম ও বুদ্ধীমান ব্যক্তি

হযরত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম এর খেদমতে জনৈক ব্যক্তি আরজ করল : সবার চেয়ে ভাল কে? এরশাদ করলেন, যার আখলাক সবচে ভাল। আরজ করল, সবচে বেশী বুদ্ধিমান কে? এরশাদ করলেন মৃত্যুকে যে ব্যক্তি সবচে বেশী স্মরণ করে এবং এর প্রস্ততি গ্রহণ করে।

সুত্র: তাম্বীহুল গাফেলীন

নীরবতার ফজিলত

কোন কথাটি ভাল এবং কোনটি মন্দ, কোন ক্ষেত্রে জিহ্বা কে কথা বলার অনুমতি দেওয়া যাইবে এবং কোন ক্ষেত্রেই বা উহাকে নিয়ন্ত্রণে রাখিতে হইবে, এই সকল বিষয় সঠিকভাবে চিন্হিত করা নিতান্তই দুরুহ বটে । তদুপরি এই সকল বিষয়ে অবগতি লাভের পরও উহার উপর আমল করা আরো কঠিন । মানবের অঙ্গসমূহের মধ্যে জিহ্বাই সর্বাপেক্ষা অবাধ্যতা ও নাফরমানী করিয়া থাকে । কেননা, এই জিহ্বা অতি সহজেই সন্চালন করা যায় এবং ইহাতে কিছুমাত্র কষ্ট করিতে হয় না । মানুষ এই জিহ্বার ক্ষতিকে মামুলী মনে করিয়া ইহা হইতে বাঁচিয়া থাকার ব্যাপারে বড় অহেলা করিয়া থাকে । অথচ এই জিহ্বার মাধ্যমেই শয়তান মানুষকে বিপথগামী করিয়া থাকে । বক্ষমান বিবরনে আমরা পর্যায়ক্রমে জিহ্বার ক্ষতি, উহার উপকরন, অনিষ্টের পরিমাণ এবং উহা হইতে আত্নরক্ষার উপায়-উপকরন ইত্যাদি বিষয়ের উপর বিস্তারিত আলোচনা করিব ।
জিহ্বার ক্ষতির পরিধি ব্যাপক- বিস্তৃত এবং উহার পরিনতিও বড় ভয়াবহ । ইহা হইতে আত্নরক্ষার একমাত্র উপায় হইল নীরব থাকা । এই কারনেই শরীয়তে নীরব থাকার প্রশংসা করিয়া উহার প্রতি উৎসাহিত করা হইয়াছে । রাসুল পাক (দঃ) এরশাদ করেছেন-”যে নিরব থাকে সে মুক্তি পায়।” -(তিরমিযি) অন্য রেওয়াতে আছে। ”নিরব থাকা হল হেকমত ও প্রজ্ঞা। (কিন্তু) কম লোকই উহার উপর আমল করে।”
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সুফিয়ানের পিতা বর্ননা করেন, একবার আমি রাসুল পাক (সাঃ) এর খেদমতে আরজ করলাম, ইসলাম সম্পর্কে আমাকে এমন কোন কথা বলে দিন যেন আপনার পরে আর কাহারও নিকট কিছু জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন না হয়। আমার এ নিবেদনের জবেবে তিনি এরশাদ করলেন,”বল, আল্লাহর উপর ইমান আনিলাম। অতপর এই ইমানের উপর কায়েম থাক। আমি আরজ করিলাম হে আল্লাহর রসুল আমি কোন বিষয় হতে বাচিয়া থাকিব ? জবাবে তিনি জিহ্বার দিকে ইশারা করে বললেন, ইহা হতে বেচে থাক।”-তিরমিযি, নাসাঈ, ইবনে মাজা, মুসলিম)।
হযরত উকবা বিন আমের রা বলেন, একবার আমি নবী করিম সা এর খেদমতে আরজ করলাম, নাজাতের উপায় কি ? তিনি (সা) এরশাদ করলেন,”জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রনে রাখ, তোমার ঘর যেন তোমার জন্য যথেষ্ট হয় (অর্থাৎ ঘর হতে বের হয়ো না) এবং নিজের গুনাহের জন্য (অনুশোচনার) অশ্রু বর্ষন কর।”-তিরমিযি।
আল্লাহর হাবিব (সা) এরশাদ করেছেন, ”যে ব্যক্তি আমাকে উভয় কানের মধ্যখানের বস্তু (অর্থাৎ জিহ্বা) এবং দুই রানের মধ্য স্হানের বস্তু অর্থাৎ লজ্জাস্হানের নিশ্চয়তা দিবে, আমি তাকে জান্নাতের নিশ্চয়তা দিব।”- বোখারী।
অন্য হাদিসে আছে, ”যে ব্যক্তি নিজের উদর, লজ্জাস্হান ও জিহ্বার ক্ষতি হতে বেচে থাকে, সেই ব্যক্তি সর্বাধিক অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে।” কেননা, মানুষ ব্যপকভাবে এই তিনটি অঙ্গের খায়েসের কারনেই বিপদগামী হয়ে থাকে।
একবার নবী করিম (সা) কে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন বিষয়ের কারনে মানুষ অধিক পরিমানে জান্নাতে যাবে ? জবাবে তিনি (সা) এরশাদ করলেন- ”আল্লাহর ভয় ও সচ্চরিত্রতার কারনে।” পুনরায় আরজ করা হলো, সেই বিষয়টিও বলে দিন যার কারনে মানুষ জাহান্নামে যাবে। এরশাদ হলো – ”দুটি খালি বস্তুর কারনে- মুখ ও ল্জ্জাস্হান।”-(তিরমিযি,ইবনে মাজা)।এখানে মুখের অর্থ জিহ্বাও হতে পারে। কেননা, মুখ হলো জিহ্বার আবাস। তাছারা মুখের অর্থ পেটও হতে পারে।কারন মুখের মাধ্যমে বা মুখের পথ দিয়েই পেট ভরা হয়।
একদা হযরত আব্দুল্লাহ সকাফী (রা) নবী পাক (সা) এর খেদমতে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা) আপনি আমার সম্পর্কে কোন বিষয়টি অধিক আশংকা করতেছেন ? জবাবে রসুল পাক (সা) স্বীয় জিহ্বা মোবারক স্পর্শ করে বললেন, ইহা সম্পর্কে । (নাসাঈ)
হযরত মোয়ায বিন জাবাল (রা) রাসুল পাক (সা) কে জিজ্ঞাসা করলেন, সর্বোত্তম আমল কোনটি ? জবাবে রসুল পাক (সা) নিজের জিহ্বা মোবারক বের করে উহার উপর আঙ্গুল স্হাপন করলেন(অর্থাৎ নিরব থাকা সর্বোত্তম আমল) তাবরানী, ইবনে আবিদ্দুনয়া।
হযরত আনাস বিন মালেক (রা) হতে বর্নীত, রাসুলে পাক (সা) এরশাদ করেন ,”বান্দার ইমান ততক্ষন পর্যন্ত ঠিক হয় না,যতক্ষন তাহার ক্বলব ঠিক না হয়।বান্দার ক্বলব ততক্ষন ঠিক হয় না, যতক্ষন তাহার জিহ্বা ঠিক না হয়।আর সেই ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, যার ক্ষতি হতে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নহে।-ইবনে আবিদ্দুনয়া।
অনত্র রাসুল পাক (সা) বলেন,”যে ব্যক্তি শান্তি পছন্দ করে ,সে যেন নীরবতা অবলম্বন করে।”-বায়হাকী,-ইবনে আবিদ্দুনয়া।
একদা রাসুল পাক (সা) এরশাদ করেন,”যখন সকাল হয় তখন মানুষের সকল অঙ্গ জিহ্বাকে বলে, আমাদের বিষয়ে তুমি আল্লাহকে ভয় কর; তুমি ঠিক থাকলে আমরাও ঠিক থাকবো,তুমি বক্র হলে আমাদের অবস্হাআও অনুরুপ হবে।
–তিরমিযি শরীফ।
একদা হযরত ওমর (রা) হযরত আবু বকর (রাঃ) কে নিজের জিহ্বা টানিতে দেখে বললেন,হে রাসুলের খলিফা আপনি ইহা কি করতেছেন ? জবাবে হযরত আবুবকর (রা) বললেন,এই জিহ্বাই আমাকে ধংসের দারপ্রান্তে পৌছে দিয়েছে।
রাসুল পাক (সা) এরশাদ করেছেন দেহের প্রতিটি অঙ্গই আল্লাহপাকের নিকট জিহ্বার ক্ষিপ্রতা সম্পর্কে অভিযোগ করে।
হযরত ইবনে মাসুদ রাঃ হতে বর্নীত যে ,তিনি সাফা পাহারে আরোহন করে তালবিয়া পাঠ করছিলেন এবং নিজের জিহ্বাকে লক্ষ করে বলতেছিলেন- হে জিহ্বা ভাল কথা বল,লাভবান হবে এবং অনিষ্ট হতে নিরব থাক, বিপদমুক্ত থকবে। লোকেরা তাকে জিঙ্গেস করলোআপনি যা বলতেছেন,ইহা কি আপনার নিজের কথা,না অপর কাহারো নিকট শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি নবী করিম (সা) কে বলতে শুনেছি,”বনী আদমের অধিকাংশ গুনাহ হলো টার জিহ্বার মধ্যে।”(-তাবরানী,বাঈহাকি।)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) নিম্নের হাদীসটি বর্ণনা করেন-”যেই ব্যক্তি নিজের জিহ্বা সংযত রাখে, আল্লাহ পাক তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখেন । যেই ব্যক্তি ক্রোধ দমন করে, আল্লাহ পাক তাকে আযাব হতে রক্ষা করেন । যে ব্যক্তি আল্লাহ পাকের নিকট ওজর করে, আল্লাহ পাক তাহার ওজর কবুল করেন ।”
একদা হযরত মোয়াজ ইবনে জাবাল (রা) নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে আরজ করলেন, ”হে আল্লাহর রাসূল (সা)! আমাকে কিছু ওসীয়ত করুন । হযরত মোয়াজের নিবেদনের জবাবে আল্লাহর নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করলেন: ”তুমি এমনভাবে আল্লাহ পাকের এবাদত কর যেন আল্লাহকে দেখছ । নিজের নফসকে মৃতদের মধ্যে গন্য কর । তুমি যদি চাও, তবে আমি তোমাকে এমন বিযয় বলবো যা এই সমুদয় বিষয় আপেক্ষা উত্তম ; তিনি হাত দ্বারা নিজের জিহ্বার দিকে ইশারা করলেন ।”(ইবনে আবিদ্দুন্‌য়া,তাবরানী)
হযরত সাফওয়ান বিন সলীম (রা) হইতে বর্ণিত, একদা নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এরশাদ করলেন: আমি কি তোমাদিগকে এমন এবাদতের কথা বলবো না, যা খুবই আছান হযরত আবু হোরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত, রাসূলে করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন-”যে ব্যক্তি আল্লাহকে এবং পরকালকে বিশ্বাস করে, সে যেন ভাল কথা বলে অথবা নীরব থাকে ।”

হযরত হাসান বসরী (রহ) বলেন, আমার নিকট নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বানী নকল করা হয়েছে যে, আল্লাহ পাক সেই ব্যক্তির উপর রহম করুন যে কথা বলিলে উপকারী কথা বলে এবং নীরবতা দ্বারা নিরাপত্তা লাভ করে ।(বায়হাকী)
এক ব্যক্তি হযরত ঈসা (আ)- এর খেদমতে আরজ করল; “আমাকে এমন কোন আমল বলে দিন, যা দ্বারা আমি বেহেশ্ত লাভ করতে পারব । তিনি বললেন, তুমি কখনো কথা বলিও না । লোকটি আরজ করলো, ইহা তো সম্ভব নহে । তিনি বললেন, তুমি ভাল কথা ব্যতীত অন্য কিছু বলিও না ।” হযরত সুলাইমান (আ) বলেন, (মনে কর) কথা বলা যদি রুপা হয়, তবে চুপ থাকা যেন স্বর্ণ ।” এক বেদুঈন নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খদমতে হাজির হয়ে আরজ করলো, আমাকে এমন কোন আমল বলে দিন যা দ্বারা আমি জান্নাত লাভ করতে পারবো । আল্লাহর নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করলেন: অভুক্তকে আহার করাও, পিপাসার্তকে পানি পান করাও, সৎকাজের আদেশ কর এবং অসৎ কাজ হইতে নিষেধ কর । তুমি যদি এইরুপ করতে না পার, তবে ভাল কথা ব্যতীত অন্য কোন কথা বলিও না । (ইবনে আবিদ্দুন্‌য়া
এক হাদীসে আছে-”নিজের জিহ্বাকে কল্যানকর কথা ব্যতীত অন্য সকল কথা হইতে বিরত রাখ, ফলে তুমি শয়তানের উপর প্রবল থাকবে । (তাবরানী,ইবনে হিব্বান) । আল্লাহর নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করলেন: আল্লাহ তা’য়ালা সকল বক্তার সাথে আছেন । সুতরাং সকলেই নিজের কথার ব্যপারে আল্লাহকে ভয় করা উচিত। এক রেওয়ায়েতে আছে, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন: মানুষ তিন প্রকার –
১। গনিমত আহরনকারী- যে আল্লাহকে স্বরন করে।
২। বিপদ আপদ হতে নিরাপদ-যে চুপ থাকে।
৩। ধ্বংস প্রাপ্ত-যে বাতিলের মধ্যে লিপ্ত।
(তাবরানী,আবুয়া’লা)
মোমিনের জিহ্বা অন্তরের পিছনে।সে কথা বলার পুর্বে চিন্তা করে তবে কথা বলে।পক্ষান্তরে মোনাফেকের জিহ্বা অন্তরের আগে থাকে। সে চিন্তাভাবনা করে কথা বলে না।যাহা মনে আসে তাহাই বলে।
হযর‌্ত ইসা আঃ বলেন, এবাদটের দশটি অংশের মধ্যে নয়টি নীইরব থাকার মধ্যে সংশ্লিষ্ট এবং একটি মাউষের সঙ্গ থেকে পৃথক থাকার সহিত ।
( গ্রন্থ সহায়তা – ইমাম গাজ্জালী (রা) রচিত ” জবানের ক্ষতি”)

গরীবদের পাঁচটি বৈশিষ্ট

হযরত ফকীহ আবুল লাইস (রহঃ) বলেন যে, হাদীস শরীফে গরীবদের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে-
১। গরীবদের প্রত্যেক আমলের ছওয়াব ধনীদের চেয়ে বেশী লাভ হয়, (যদিও উভয়ের আমল সমানই হয়)।
২। গরীব যদি দারীদ্রতার কারনে নিজের কোন আশা-আকাংখা পুরণ করতে না পারে, তাহলে তাকে প্রতিদান দেয়া হবে (যদি সে সবর (ধৈর্য ধারণ) করে থাকে।
৩। গরীব ধনীদের আগে জান্নাতে যাবে, (যদিও আমলের মধ্যে উভয়েই সমানে সমান হয়)।
৪। আখেরাতে গরীবের হিসাব সহজ হবে, (মাল-সম্পদের ব্যাপারে গরীব থেকে হিসাবের প্রশ্নই উঠবেনা)।
৫। কিয়ামত দিবসে ধনীদের অপেক্ষা গরীবরা কম লজ্জিত হবে, (সে সময় ধনীরা বলবে – আফছোছ! আমরাও যদি গরীব হতাম)।

সুত্র: তাম্বীহুল গাফেলীন

এক লাখ থেকে উত্তম এক পয়সা

হযরত রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু তা‌‌আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম)– এরশাদ করেছেন- অনেক সময় এক দিরহাম সদকা এক লাখ দিরহাম থেকে উত্তম হয়। সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) আরজ করলেন, সেটা কীভাবে? (হে আল্লাহর রাছুল (সাল্লাল্লাহু তা‌‌আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এরশাদ করেছেন- এক ধনী লোক তার অঢেল ধন-দৌলত থেকে এক লক্ষ দিরহাম সদকা করল, আর এক গরীব যার কাছে মাত্র দু’টি দিরহামই আছে। সে এক দিরহাম আল্লাহ্ তা’আলার জন্যে খরচ করল, তাহলে তার এই এক দিরহাম এক লক্ষ অপেক্ষা উত্তম।

আকাংখা পূর্ণ না হলে ছওয়াব

সাহাবায়ে কেরাম হযরত রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু তা‌‌আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর কাছে আরজ করলেন, কোন কোন সময় আমাদের কোন জিনিসের আকাংখা হয়, কিন্তু পয়সা না থাকার কারনে সে জিনিস লাভ করতে পারি না, এতে কি আল্লাহ্ পাকের কাছে প্রতিদান পাওয়া যাবে? হুজুর পাক (সাল্লাল্লাহু তা‌‌আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এরশাদ করেছেন- এটার উপরও ছওয়াব না হলে তো আবার কোনটার উপর ছওয়াব হবে?
হযরত যেহাক (রহঃ) বলেন, যদি কোন ব্যক্তি বাজারে যায়, আর কোন জিনিস দেখে খেতে ইচ্ছে করে, কিন্তু পকেট খালী থাকায় ক্রয় করতে না পেরে ছওয়াবের আশায় সবর করে, তাহলে সে এক লক্ষ দিরহাম দান করার চেয়েও বেশী  ছওয়াব পাবে।

সুত্র: তাম্বীহুল গাফেলীন

কুরআন শরীফে গরীবের প্রশংসা

হযরত ফকীহ আবুল লাইস (রহঃ) বলেন, সামনের আয়াত থেকে গরীব মানুষের প্রশংসা বুঝা যায় –

اَقِيْمُىا الصَّلَواةَ وَاَتُوا الزَّكَواةَ وَاَطِيْعُىا الرَّسُوْلَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ

“তোমরা নামাজ কায়েম কর, যাকাত আদায় কর এবং রাছুলের অনুসরণ কর, যাতে তোমাদের উপর রহমত করা যায়”। এ আয়াত শরীফে আল্লাহ্ তা’আলা দরীদ্রের হক “যাকাত” কে নিজের হক নামাজের সাথে বর্ণনা করেছেন, এটা দরীদ্র মানুষের ফজীলতের উপর এক উজ্জল স্বাক্ষর, দলীল।

সুত্র: তাম্বীহুল গাফেলীন

দরিদ্রকে ঘৃণাকারী ব্যক্তি অভিশপ্ত

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি মালদারকে (তার মাল-সম্পদের কারনে) সম্মান করে এবং দরিদ্রকে (তার দৈন্যতার কারনে) তুচ্ছ জানে, ঘৃণা করে, সে মালউন, অভিশপ্ত।
হযরত আবুদ্দারদা (রাঃ)-এর এরশাদ
হযরত আবুদ্দারদা (রাঃ) বলেন যে, আমরা আমাদের মালদার ভাইদের সাথে ইনসাফ করি না, খাওয়া, পান করা, পরিধান করার মধ্যে আমরা সবাই সমান। শুধু এসব বস্তুর ধরনের মধ্যে পার্থক্য। মালদার ব্যক্তি তার অতিরিক্ত মাল ব্যবহার করতে পারে না, তবে হাঁ অবশ্যই দেখতে পায়। যা আমরাও দেখতে পাই, তাদের উপর এটার হেফাজত করার অতিরিক্ত দায়িত্ব আছে, মালের হিসাব নেয়া হবে, আর আমরা তা থেকে নিরাপদে থেকে যাবো।

সুত্র: তাম্বীহুল গাফেলীন

কল্যাণ থেকে দুরে রাখে চারটি অভ্যাস

জনৈক বিজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন, যে ব্যক্তির মধ্যে চারটি বিষয় পাওয়া যাবে, সে সমস্ত কল্যাণ থেকে বঞ্চিত থাকবে।
১। স্বীয় অধীনস্তদের উপর জুলুম ও অতিরঞ্জিত করা
২। পিতা-মাতার নাফরমানী করা
৩। গরীব লোকদের তুচ্ছ জানা
৪। ফকীর-মিসকীনদের লজ্জা দেয়া।