আখেরাতে রাসূলুল্লাহ্ (দ:) এর সহাচার্যতা

হযরত রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু তা‌‌আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – একবার বললেন, আয়েশা! পরকালে যদি তুমি আমার কাছে পোঁছতে চাও এবং থাকতে চাও, তাহলে দুনিয়াতে তোমার জন্যে মুছাফিরের মত পাথেয় যথেষ্ট হওয়া চাই, সম্পদ শালীদের সাহচার্যতা থেকে দূরে থাকবে, পরিধানের কাপড়ে তালি (পট্টি) লাগানোর পূর্ব পর্যন্ত পরিধান বর্জন করবেনা।

একবার তিনি হযরত রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু তা‌‌আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  দোয়া করলেন, হে আল্লাহ্! আমাকে যে ভালবাসে তাকে এফাফ ও কাফাফ দান কর। এফাফ অর্থ পূত-পবিত্রতা আর কাফাফ অর্থ রোজীতে যথেষ্টতা।

হাউজে কাউছার

আমাদের নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) কে যে হাউজে কাউছার দেয়া হয়েছে, তা সত্য। এর দৈর্ঘ্য এক মাসের পথ এবং প্রস্থও অনুরূপ । এর কিনারা স্বর্ণের, যার উপর মুক্তার গুম্বুজ স্থাপিত আছে। এর তল মেশকের তৈরী এবং এর পানি দুধ থেকে অধিক সাদা ও মধু থেকে অধিক মিষ্ট এবং মেশক থেকে অধিক সুগন্ধময়। যে এর পানি একবার পান করবে, সে কখনও  ‍তৃষ্ণার্ত হবে  না। ওখান থেকে পানি নেয়ার পাত্র তারকারাজি থেকেও সংখ্যায় অধক । ওটাতে জান্নাত থেকে দু’টি নল দিয়ে পানি পতিত হয়। নল দ’টির একটি স্বর্ণের এবং অপরটি চান্দির।

রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) প্রেমই ঈমানের ভিত্তি

আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ ফরমান:

قُلْ اِنْ كَانَ اَبَاؤُكُمْ وَاَبْنَاؤُكُمْ وَ اِخْوَانُكُمْ وَ اَزْوَاجُكُمْ وَ عَشِيْرَتُكُمْ وَاَمْوَالُ نِ اقْتَرَفْتُمُوْهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَكِنُ تَرْضَوْنَهَا اَحَبَّ اِاَيْكُمْ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُوْلِهِ وَ جِهَادٍ فِىْ سَبِيْلِهِ فَتَرَبَّصُوْا حَتَّى يَاْتِىَ اللَّهُ بَاَمْرِهِ وَاللَّهُ لآ يَهْدِىْ الْقَوْمَ الْفَسِقِيْنَ

(হে নবী, তুমি বলে দাও- ওহে লোক সকল, তোমাদের মাতা-পিতা, সন্তান, ভাই, পত্নী, স্বগোষ্ঠী, অর্জিত সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য যার মন্দা পরার আশংকা কর, এবং তোমাদের পছন্দনীয় বাসস্থান- এসবের কোন একটি যদি তোমাদের কাছে আল্লাহ, তার রাসুল এবং তার পথে চলার প্রচেষ্ঠা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তাহলে আল্লাহর শাস্তি আসা পর্যন্ত আপেক্ষা কর। আল্লাহ তা’য়ালা অবাধ্যদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করেন না।

আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ ফরমান :

لاَ يُوْمِنُ اَحَدُكُمْ حَتَّى اَكُوْنَ اَحَبَّ اِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ اَجْمَعِىْنَ

তোমাদের কেউ ততক্ষন পর্যন্ত ইমানদার বলে গন্য হবে না, যতক্ষন পর্যন্ত না আমি তার কাছে তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি এবং সমস্ত মানুষ থেকে অধিক প্রিয় না হই (বুখারী ও মুসলিম)